• ২৯শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোলায় ফের বাঁধে ভাঙন, অগ্রগতি নেই বরাদ্দের কাজেও

"আলোকিত সংবাদ ডেস্ক"
প্রকাশিত জুলাই ২৬, ২০২৫, ২০:০২ অপরাহ্ণ
ভোলায় ফের বাঁধে ভাঙন, অগ্রগতি নেই বরাদ্দের কাজেও
সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে ভোলার চরফ্যাশনের খেজুর গাছিয়া এলাকায় জোয়ারের পানির তীব্র ঢেউয়ে ২৫০ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে বাঁধের অভ্যন্তরে বসবাসকারী অন্তত দুই হাজার পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।ফ্যামিলি ট্যুর প্যাকেজ

বাঁধ রক্ষায় ৪৫ লাখ টাকা জরুরি বরাদ্দ দেওয়া হলেও দেড় মাস পার হলেও ঠিকাদাররা শেষ করতে পারেননি অর্ধেক কাজও। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক কোন্দল ও কাজের ধীরগতির কারণে আজও ঝুঁকিমুক্ত হয়নি এলাকা।

শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত দুই দফায় বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দেয় চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের খেজুর গাছিয়া এলাকায়। সরেজমিনে শনিবার (২৬ জুলাই) বিকালে গিয়ে দেখা গেছে, ভাঙন কবলিত স্থানগুলোতে জিও ব্যাগ ও শিট ফেলে সাময়িকভাবে রক্ষা করার চেষ্টা চলছে। কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক বাঁধ মেরামতের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরে আলম মাঝি (৫০) জানান, ‘শুক্রবার সকালে খেজুর গাছিয়া বেড়িবাঁধটি জোয়ারের পানির ঢেউয়ের আঘাতে দ্বিতীয় দফায় ভাঙন শুরু হলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। এখানকার বাসিন্দারা পুরোপুরি ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানিতে বাড়ি-ঘর তলিয়ে যেতে পারে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, ‘গত ২ জুন ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র প্রভাবে প্রথমবারের মতো বাঁধে ভাঙন শুরু হয়। সেই সময় প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নিলেও স্থানীয় দুই রাজনৈতিক গ্রুপের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে। শনিবার সকাল থেকে বাঁধটি বড় ফাটল দেখা দেয়। যদিও দুপুরের মধ্যে জোয়ারের পানির চাপে বেশিরভাগ অংশ ভেঙে গেছে।’

বাঁধ নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আশরাফুল ইসলাম দিপু ফরাজি এবং সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম রাসেল দাবি করেন, নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

তারা বলেন, ‘গত মাসে মাটি ভরাটের কাজ করা হয়েছে। অতি জোয়ারের পানিতে মাটি ধসে গেছে। শুক্রবার হটাৎ নিম্নচাপের প্রভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঢেউয়ের আঘাতে বেড়িবাঁধের মাটি ধসে গিয়ে বড় আকারে ফাটল দেখা দেয়। রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে জিও শিট দিয়ে ভাঙ্গন ঠেকানো হয়। শনিবার দুপুর থেকে বাঁধ নির্মাণ কাজ করছে শ্রমিকরা।’

চরফ্যাশন উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদদৌলা বলেন, ‘গত ২ জুন খেজুর গাছিয়া এলাকায় ২৫০ মিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর জরুরি ভিত্তিতে ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। শুক্রবারের জোয়ারে বাঁধটির প্রায় ৯০ শতাংশ আবারও ভেঙে যায়। ওইদিন রাতেই উপজেলা প্রশাসনসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুই ঠিকাদারকে বাঁধ নির্মাণ কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’