
রিপন হাওলাদার,বরিশাল:: বরিশালে গভীর রাতের আঁধারে ইলিশ মাছের গাড়ীতে,পুলিশ ও সাংবাদিক পরিচয়, মৎস্য কর্মকর্তা বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ছাড়াই তল্লাশির নামে চাঁদাবাজি করার অভিযোগ উঠেছে। কিছু পুলিশ সদস্যের বিতর্কীত অভিযানের কারণে ,বরিশাল মেট্রোপলিটন (বিএমপি) পুলিশ কমিশনার মান ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
পোর্টরোড এলাকার মাছ ব্যবসায়ী আবু জাফর বলেন, মহিপুর থেকে পোর্টরোড আড়তে বড় সাইজের ইলিশ মাছ আশার পথে আমতলা মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকজন ব্যক্তী গাড়ী থামিয়ে লেকপার্কের পাশে আঁধারে নিয়ে যায়।

এ-সময় তারা সাংবাদিক ও প্রশাসনের পরিচয় গাড়ী তল্লাশী করেন। দীর্ঘ দু’ঘন্টা সময় তল্লাশী করে এবং কোনো জাটকা ইলিশ মাছ না পেয়ে গাড়ী আটকিয়ে দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। তাদের দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করায়, গাড়ীর ড্রাইভার ও হেলপারকে মারধর করে। কিন্তু তাদের কাছে মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতি না থাকার কারণ জিজ্ঞেস করলে আরও চড়াও হয়। পরবর্তীতে বিশ হাজার টাকা দিয়ে মাছের গাড়ী আড়তে ছাড়িয়ে নিয়ে আশি।
মহিপুরের মাছ ব্যবসায়ী হান্নান মৃধা বলেন, গত (২ নভেম্বর) মহিপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য কিছু ইলিশ মাছ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বরিশাল আমতলার মোড় এল জি ডি অফিসের সামনে মৎস্য কর্মকর্তা ছাড়াই পুলিশ ও সাংবাদিক পরিচয় গাড়ী আটকিয়ে দুই ককসেট ইলিশ মাছ নামিয়ে নিয়ে যায়।
নগরের আমলতা মোড় এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর বেপারী জানান, সাবেক বিএমপি পুলিশ কমিশনার অফিস থেকে খান বাড়ী সড়কের মুখ পর্যন্ত বিসিসি’র রোড লাইটি বা সিসিক্যামেরা নাই। এর জন্য অপরাধীরা সাধারণ মানুষের মাছের গাড়ী আটকিয়ে চাঁদাবাজি করার সাহস করে। আমরা মাননীয় পুলিশ কমিশনার স্যারের কাছে অনুরোধ করছি, আমতলা লেকেরপার্ক এলাকায় বিসিসি’র রোড লাইট ও সিসিক্যামেরা স্থাপন করা হোক। তাহলে এধরণের হয়রানী থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি পাবে।

এবিষয়ে বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ জানান,আমরা ৭ দিন ধরে কোনো অভিযান পরিচালনা করি নাই। কিন্তু কিছু লোকজন রাস্তা থেকে মাছের গাড়ী আটকিয়ে মৎস্য অফিসে নিয়ে আসেন। রাস্তা থেকে মাছের গাড়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা মৎস্য কর্মকর্তা ছাড়া কোনো পুলিশ প্রশাসন অথবা সাংবাদিক আটকানোর এখতিয়ার রাখেন না। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং তারা অবৈধ পন্থায় অর্থনৈতীক ভাবে লাভবান হতে এসব কাজ করছে। এদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে জাটকা ইলিশ মাছের অভিযান অব্যহত রয়েছে। কোনো যাত্রীবাহী বাস বা ট্র্যাকে জাটকা ইলিশ পরিবহন করার তথ্য থাকে তা মৎস্য কর্মকর্তা অথবা জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানোর জন্য অনুরোধ করেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন (বিএমপি) পুলিশের কমিশনার, মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, নগরীতে রাতের আঁধারে কেউ যদি মাছের গাড়ী আটকিয়ে চাঁদাবাজি বা যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশীর নামে যাত্রী হয়রানি করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। এদের সাথে কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ৫১২