
রিপন রানা,বরিশাল:: বরিশাল জেলার সদর উপজেলার একটি অত্যন্ত পরিচিত চরকাউয়া ইউনিয়ন। কীর্তনখোলা নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত হওয়ায় এটি বরিশাল শহরের একদম কাছাকাছি এবং অর্থনৈতিক ও যাতায়াতের দিক থেকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
বিগত সরকারের আমলেও ৭নং চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ডে লাগেনি উন্নয়নের ছোয়া।
এমনটাই গানের শুরে তুলে ধরলেন সাহেদ হোসাইন (জাকির) নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী যুবক। তিনি গানে গানে বলেন, ৭ নং চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদের মানুষ মোড়া ১নং ওয়ার্ডে বাড়ি, সোনার বাংলার সোনার ছেলে ছিলো চেয়ারম্যান ছবি। এই রাস্তাডার হয়নি উন্নয়ন দুঃখের কথা কার কাছে বলি বন্ধু’রে। জাহাঙ্গীর মাষ্টার নুর ইসলাম মৃধার বাড়ীর রাস্তা। হাটতে গেলে দেখা যায়গো জায়গায় জায়গায় ভাঙ্গা। এমন মানুষ পাইলাম না আর, হইবে রাস্তা পাকা বন্ধুরে। গরীব দুখীর বন্ধু সবাই ভোটের সময় কয়। সার্থ ফুরিয়ে গেলে কেউতো কারও নয়, এতোদিনে চিনলাম আমি মেম্বার ও চেয়ারম্যান কারে বন্ধু কয়।
এই প্রতিবাদী গানটি ফেসবুক এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ ফেসবুক ব্যবহারকারী ও দর্শক (নেটিজেনরা) বিভিন্ন ধরণের ইতিবাচক ও প্রশংসামূলক মন্তব্য করছেন। বেশিরভাগ ব্যবহারকারী জাকিরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন,বর্তমান সময়ে সরাসরি মেম্বার-চেয়ারম্যানদের নাম ধরে এভাবে ভাঙা রাস্তার অবহেলার কথা গানে গানে তুলে ধরা অত্যন্ত সাহসী একটি কাজ।
গানটির কথাগুলো শুধু চরকাউয়ার জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের অনেক গ্রামীণ অঞ্চলের বাস্তব চিত্র। “ভোটের সময় সবাই বন্ধু, স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে কেউ কারও নয়”—এই লাইনটির সাথে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
অনেক দর্শক জাকিরের গানের সুর ও গায়াকীর প্রশংসা করে লিখেছেন, “ভাই আপনার গানটি অনেক সুন্দর হয়েছে, আপনার জন্য দোয়া ও ভালোবাসা রইলো।” অনেকে তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরও বেশি সক্রিয় হয়ে এমন জনকল্যাণমূলক গান গাওয়ার অনুরোধ করেছেন।
বেশ কিছু স্থানীয় ফেসবুক ব্যবহারকারী এই ভিডিওটি বিভিন্ন গ্রুপে শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখছেন,”আশা করি এই গানটি ভাইরাল হওয়ার পর সুধী সমাজ ও বর্তমান প্রশাসনের চোখ খুলবে এবং দ্রুত এই ভাঙা রাস্তাটি এলাকায় যারা জনপ্রতিনিধি রয়েছেন তারা এবং বিএনপির নেতা কর্মীরা দ্রুত সংস্কারসহ পাকা করার ব্যবস্থা করিবেন।
ফেসবুকের সাধারণ মানুষ এই গানটিকে কেবল একটি বিনোদন হিসেবে নেননি, বরং এটিকে এলাকার অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বর বা প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে দেখছেন।
সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ২০৬