
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী মাইশা ফৌজিয়া মিম বাস চাপায় নিহত হওয়ার পর জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারসহ ১০ দফা দাবি পূরণের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক ১৩ ঘণ্টা পর ছাড়লেন।
বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর থেকে মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়। এরআগে বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হন মিম। এই ঘটনার পর উত্তাল হয়ে ওঠে ববি, এবং শিক্ষার্থীরা বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দফায় পাঁচ ও আট ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করেন। উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ঘাতক নারায়ণগঞ্জ এক্সপ্রেস বাসটি জ্বালিয়ে দেন।
অবরোধের কারণে দুই প্রান্তে যাত্রীবাহী বাসসহ শত শত যানবাহন আটকে গিয়ে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। অবরোধ তুলে নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটে দুপুর ১২টার দিকে মিমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হাজারো মানুষ অংশ নেন।
নিহত মিম ববির পরিসংখ্যান বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি নেত্রকোনার মোহাম্মদ আলীর মেয়ে ও বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। মায়ের সঙ্গে ঢাকায় থাকতেন।
ববি শিক্ষার্থী সুজয় শুভ জানান, প্রশাসন থেকে জড়িত চালক ও হেলপারকে দ্রুত গ্রেফতার করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তারা যথাযথ ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণসহ সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমের দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিন বলেন, “শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দাবি আমারও দাবি। আমরা ইতোমধ্যে কিছু দাবি পূরণের কাজ শুরু করেছি এবং প্রয়োজনে যা দরকার, তাই করবো।
এদিকে, বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে দায়ীদের আটকে অভিযান চলছে। শিক্ষার্থীরা এই ঘটনায় যদি তাদের দাবি পূরণ না হয়, তাহলে ফের আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের হুমকি দিয়েছেন।
সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ২১৭