
রিপন রানা,বরিশাল:: উচ্চ শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ও চোরাই পথে বরিশালে ঢুকছে লাখ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গা। কোনো প্রকার ভ্যাট বা ট্যাক্স ছাড়া এসব কাপড় বরিশালের নামিদামি শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাতে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। এতে এক দিকে সরকার প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্য দিকে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন দেশীয় কাপড়ের বৈধ ব্যবসায়ী ও তাঁতশিল্পীরা। এই অবৈধ চোরাচালান বন্ধে স্থানীয় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সীমান্ত পার হয়ে দেশের বিভিন্ন রুট এবং নৌপথ ব্যবহার করে বরিশালের বড় বড় পাইকারি ও খুচরা বাজারে আসছে ভারতীয় কাপড়ের এসব বড় বড় চালান। বিশেষ করে ঈদ, পূজা বা বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে এই চোরাচালানের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। বৈধ আমদানিকারকদের যেখানে উচ্চহারে কাস্টমস ডিউটি ও ভ্যাট পরিশোধ করতে হয়, সেখানে চোরাই পথে আসা এসব কাপড়ে কোনো ট্যাক্স না থাকায় কম দামে বাজারে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে বৈধ ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছেন না।
ব্যবসায়ীদের একটি সূত্র জানায়, চোরাকারবারিরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা স্থানীয় কিছু অসাধু মহলের যোগসাজশে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসা এসব কাপড় বিক্রির কারণে সরকারের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রতি বছর বিশাল অঙ্কের ভ্যাট ও ট্যাক্স থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, চোরাই কাপড়ের দাপটে দেশীয় জামদানি, মনিপুরী বা সাধারণ সুতি শাড়ির বাজার মার খাচ্ছে। তারা অবিলম্বে বরিশালের চকবাজার, কাটপট্টিসহ বিভিন্ন শপিং মলে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে বিশেষ অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে শুল্ক গোয়েন্দা ও ভ্যাট কর্মকর্তাদেরও এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক চক বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন,গৌরনদী এলাকার বাসিন্দা ভোলা শাহ্’র নেতৃত্বে এসব ভারতীয় শাড়ী বরিশালে বিক্রি করা হয়।
সচেতন নাগরিকেরা বলছেন, এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করা না গেলে একদিকে সরকারের রাজস্ব যেমন তলানিতে ঠেকবে, তেমনি দেশীয় বস্ত্রশিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে। এই বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি), জেলা প্রশাসন এবং কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের দ্রুত এবং কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন বরিশালের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়।
সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ৬৩