• ২০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএমপির স্টিমারঘাট ফাঁড়ির বিতর্কিত কর্মকাণ্ড: ৫ পুলিশ সদস্যকে বদলি

"আলোকিত সংবাদ ডেস্ক"
প্রকাশিত আগস্ট ২০, ২০২৬, ১৫:৩২ অপরাহ্ণ
বিএমপির স্টিমারঘাট ফাঁড়ির বিতর্কিত কর্মকাণ্ড: ৫ পুলিশ সদস্যকে বদলি
সংবাদটি শেয়ার করুন....

বরিশাল প্রতিনিধি:: বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কোতোয়ালি মডেল থানার আওতাধীন স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে ব্যাপক অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ৫ পুলিশ সদস্যকে একযোগে বদলি করা হয়েছে।

বদলিকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন— স্টিমারঘাট ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই বোরহান,এএসআই কাইউম,এএসআই আমিনুল,জামাল এবং মেহেদী।

গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গভীর রাতে বিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই ৫ পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মস্থল থেকে সরিয়ে বদলি করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেডিসি কলোনির এক যুবক বলেন, “স্টিমারঘাট ফাঁড়ির এএসআই বোরহান, এএসআই কাইউম, এএসআই আমিনুল, জামাল এবং মেহেদী দীর্ঘদিন ধরে কেডিসি কলোনির মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে আঁতাত করে চলছেন। তারা মূল মাদক ব্যবসায়ীদের আটক না করে, যারা সামান্য ১০০ টাকার গাঁজা কিনতে আসে এমন যুবকদের আটক করে মামলার ভয় দেখিয়ে ফাঁড়িতে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সেখানে বসেই আটককৃতদের পরিবারের লোকজনকে ফোন দিয়ে ডেকে এনে মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন।”

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সূত্রগুলো জানায়, এই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক নির্মূল ও আসামি ধরার নামে এলাকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বোরহান, কাইউম, আমিনুল, জামাল ও মেহেদীসহ এই চক্রটি নিরপরাধ সাধারণ মানুষকে ফাঁড়িতে আটকে রেখে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার ‘আটক বাণিজ্য’ শুরু করেন। সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ বিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুরো ফাঁড়ি জুড়ে এই কঠোর অ্যাকশন নেয় প্রশাসন।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা বদলির বিষয়টি নিয়মিত প্রক্রিয়া দাবি করলেও, স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মাঝে এই রদবদলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে কোনো ধরনের অনিয়ম, অনৈতিক সুবিধা বা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার সুযোগ নেই। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।