
নিজস্ব প্রতিবেদক :: নিরবেই কেটে গেল বরিশাল মেট্রোপলিন পুলিশের অষ্টাদশ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশাল জেলার কোতয়ালী থানা নিয়ে নব গঠিত পুলিশ ইউনিট বরিশাল মেট্রোপলিন পুলিশের যাত্রা শুরু হয়। সেদিন নগরীর ওয়াপদা কলোনীর প্রশাসনিক ভবনের সামনের খোলার মাঠে বরিশাল মেট্রোপলিন পুলিশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন সিটি মেয়র ও জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মুজিবুর রহমান সারোয়ার। বরিশাল রেঞ্জের তৎকালীন ডিআইজি আমিনুল ইসলাম বরিশাল মেট্রোপলিন পুলিশের প্রথম কমিশনারের দায়িত্ব লাভ করেন। কোতয়ালী ছাড়াও এয়ারপোর্ট, বন্দর ও কাউনিয়া থানা নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠিত হবার কথা থাকলেও প্রাথমিকভাবে এক কমিশনার, এক উপ-কমিশনার ও এক থানা নিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়।
তবে প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে শুধুমাত্র কোতয়ালী থানা নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিন পুলিশের কার্যক্রম শুরু হলে পরবর্তিতে ৪টি থানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু গত দেড় যুগেও বরিশাল মেট্রোপলিন পুলিশের অনুমেদিত জনবলের অভাবে পুলিশের সুষ্ঠু কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। এমনকি সম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরে বরিশাল মেট্রোপলিন পুলিশের দুই অতিরিক্ত কমিশনার ছাড়াও কয়েকজন উপ-কমিশনারকে পদোন্নতিসহ নানাভাবে অন্যত্র বদলী করা হলেও সেসব পদে আর নতুন কোন কাউকে পদায়ন করা হয়নি। ফলে বর্তমানে এ পুলিশ ইউনিটের দুজন অতিরিক্ত কমিশনার ও ৪জন উপ-কমিশনারের পদ শূণ্য থাকায় সার্বিক কার্যক্রম যথেষ্ঠ ব্যহত হচ্ছে। তবে অতি সম্প্রতি একজন অতিরিক্ত কমিশনারকেবরিশাল মেট্রোপলিন পুলিশে বদলীর আদেশ জারী করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এমনকি এ পুলিশ ইউনিটে সহকারী কমিশনারসহ নিচের পর্যায়ের কর্মকর্তার বিপুল সংখ্যক পদ শূণ্য রয়েছে। ফলে একজন সহকারী কমিশনারকে দুটি করে থানারও দায়িত্বে রাখা হয়েছে বলে জনা গেছে।
ট্রাফিক, বিশেষ শাখা ও গোয়েন্দা শাখাসহ বিভিন্ন বিভাগেও অনুমোদিত জনবল সংকট রয়েছে। তবে গত দেড় যুগে বরিশাল মেট্রোপলিন পুলিশের জন্য নিজস্ব প্রশাসনিক ভবন নির্মিত হলেও এখনো পুলিশ লাইনন্স পরিপূর্ণভাবে চালু হয়নি। এমনকি এ পুরিশ ইউনিটের লাইন্সটি করা হয়েছে নগরীরর এক প্রান্তে। ফলে অনেক জরুরী মুহূর্তে নগরীতে ফোর্স মোতায়েনসহ জরুরী পরিসেবা ব্যহত হবার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি পুলিশ কমিশনারসহ কোন বরিশাল মেট্রোপলিন পুলিশের কর্মকর্তাদের জন্য কোন আবাসন সুবিধা সৃষ্টি করা হয়নি অদ্যাবধি।
অপরদিকে দীর্ঘদিন ধরেই বরিশাল মেট্রোপলিটনের আইন-শৃংখলা রক্ষা এবং সুষ্ঠু পুলিশী কার্যক্রমসহ জনেসবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নগরীতে আরো অন্তত ৩টি থানা প্রতিষ্ঠার দাবি রয়েছে। নগরীর পশ্চিম অংশ নিয়ে নবগ্রাম রোড-চৌমহনী থানা, মিনি বাস টার্মিনালসহ পশ্চিম-দক্ষিণ অংশ নিয়ে রূপাতলী থানা এবং চরমোনাই এলাকা নিয়ে একটি ভিন্ন থানা প্রতিষ্ঠার দাবি রয়েছে।
এসব বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, ‘আমরা মহানগরীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করনে জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করছি। অতি সাম্প্রতিক দূর্গাপুজা উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদনের পরে আসন্ন কালী পুজায় বরিশালে উপ-মহদেশের অন্যতম বৃহৎ মহাশ্মশানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হচ্ছে। এবারই প্রথমবারের মত বরিশাল মেট্রোপলিন পুলিশ ড্রোনের সাহায্যে সার্বিক আইন-শৃংখলা পর্যবেক্ষন করবে।
তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে অধিক মনযোগ প্রদান করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কোন অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব হয়নি। তবে আগামীতে এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
মেট্রোপলিন পুলিশের জনবল ঘাটতির কথা উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, ‘পুলিশ সদর দপ্তর ও মন্ত্রনলয় বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত আছেন এবং সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে।
সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ২৩৫