
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: বরিশালে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অপসোনিনে ১০ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন করছেন শ্রমিকেরা। এই আন্দোলন দমাতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে কারখানাসংলগ্ন গ্যাসটারবাইন এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বিএনপির একদল নেতা-কর্মী মালিকপক্ষের হয়ে এ হামলা চালান।
এ ঘটনায় অপসোনিন সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. রিয়াজুল ইসলাম রানা কোতয়ালী মডেল থানায় গতকালই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তাঁর অভিযোগ, হামলার নেতৃত্ব দেওয়া চুন্নু,সরোয়ার, ইমরান নগর বিএনপির শীর্ষ এক নেতার কর্মী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, শ্রমিকদের ১০ দফা দাবির উল্লেখযোগ্য হচ্ছে গ্রেডিং প্রথা বাতিল করা, চাকরি স্থায়ীকরণ, নিয়োগপত্র প্রদান, রোজায় খাবার বাবদ ১৩০ টাকা করে প্রদান, অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা, অভিযোগ বক্স বসানো, প্রতি মাসে মালিকদের সঙ্গে শ্রমিকদের আলোচনা সভা করা ইত্যাদি।
জানতে চাইলে অপসোনিন সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক এবং কারখানাটির প্যাকেজিং শাখার কর্মী রিয়াজুল ইসলাম রানা বলেন, ‘আমরা কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল সকাল ৬টায় কারখানাসংলগ্ন গ্যাসটারবাইন এলাকায় শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করতে জড়ো হই। হঠাৎ একদল পেটোয়া বাহিনী এসে আমাদের আটকে ফেলে। ঘটনাস্থলে আসা বিএনপির পরিচয়ধারী চুন্নু ,সরোয়ার, ইমরান,আন্দোলন দমাতে ধমকাতে থাকেন। একপর্যায়ে শ্রমিকদের জোর করে ঠেলে ওই স্থান থেকে সরিয়ে দেন তাঁরা। সরোয়ার , চুন্নু,ইমরান এ সময় হুমকি দেন, এ এলাকায় এলে গুম করে ফেলবেন।’
তবে স্থানীয় বিএনপির কর্মী সরোয়ার হোসেন বলেন, তাঁকে আন্দোলন রোধের জন্য ইমরান ও চুন্নু ডেকে নিয়েছেন। তিনি আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে বলে চা-পান করিয়ে বিদায় করার চেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করেন, হামলার কোনো ঘটনাই ঘটেনি। অপসোনিনের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্কও নেই। তিনি বিএনপির বহু পুরোনো কর্মী, নেতা নন।
অপসোনিনের সুপারভাইজার ইমরান হোসেন বলেন, একদল শ্রমিক আন্দোলন করতে চেয়েছিলেন। তাঁদের বুঝিয়ে বলার কারণে চলে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা অপসোনিনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করেছি—তারা পারলে এমন প্রমাণ করে দেখাক।’
অপসোনিন শ্রমিকদের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করা বাসদের সদস্যসচিব ড. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে আন্দোলন করতে গিয়ে অপসোনিনের মালিকের লোকজন হামলা করেছেন। বিএনপির পরিচয়ধারী সরোয়ার, ইমরান এর আগেও মালিকের পেটোয়া বাহিনী হয়ে কাজ করেছেন।
এ ব্যাপারে বরিশাল মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, তিনি শুনেছেন আন্দোলনকারী অপসোনিনের শ্রমিকেরা হামলার শিকার হয়েছেন। তবে ওই এলাকায় সরোয়ার নামের কেউ বিএনপির পদধারী নেতা নেই। যদি কোনো নেতার নাম ভাঙিয়ে কেউ নৈরাজ্য করে, তবে প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, অপসোনিন শ্রমিকের পক্ষে রিয়াজুল ইসলাম নামে এক যুবক একটি জিডি দায়ের করেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
১০ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন করছেন অপসোনিন কারখানার শ্রমিকেরা।
অভিযোগ উঠেছে, বিএনপির দলনেতা-কর্মী মালিকপক্ষের হয়ে এ হামলা চালান।
সূত্র আজকের পত্রিকা…
সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ২৭২