
আলোকিত সংবাদ ডেস্ক ::: বরিশালের ঐতিহ্যবাহী চরকাউয়া খেয়াঘাটটি বিআইডব্লিউটিএ’র উন্নয়নমূলক কাজের নামে উচ্ছেদ ও দখল করার অভিযোগ করে সাধারণ জনগণ ও যাত্রীরা।
আজ রবিবার (২৪ নভেম্বর) সকালে চরকাউয়া খেয়াঘাটের মুল ফটকে উন্নয়ন মূলক কাজে বাঁধা দেয় স্থানীয় ও পথচারী যাত্রীরা।

খালেক নামে এক যাত্রী বলেন, নগরীর ১০নং ওয়ার্ডস্থ কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী চরকাউয়া ঘাটটি বিআইডব্লিউটিএ’র দখল করে নেওয়ার জন্য পায়তারা করছেন।
চরকাউয়া খেয়াঘাট শত বছরের পুরানো, এখান থেকে দেশের দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের লক্ষীপুর থেকে শুরু করে ভোলার বরিশালে প্রায় ১০ থেকে ১৫ ইউনিয়নের লাখ লাখ মানুষের চলাচলের ভরসার স্থান। বরিশালের পূর্ব অঞ্চলের মানুষের শহর মুখি যোগাযোগ এক মাত্র পথ হলো চরকাউয়া খেয়া।
এ ঘাট সকল শ্রেণির পেশা থেকে শুরু করে ছাত্র অসুস্থ রোগীরা ট্রলারের মাধ্যমে শহর মুখি হয়। অতি সহজে শহরে সেবা নিতে আসা মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কম হয়।
আর এই ঘাট যাতায়াতের মানুষের চলাচলে ব্যহত হলে মানুষের ভোগান্তির কোন শেষ নেই। কারন পূর্ব অঞ্চলের সহজ পথ হলো চরকাউয়া খেয়াঘাট। এখান থেকে চালাচল সমস্যা হলে তাদের প্রায় ১১ থেকে ১২ কিলোমিটার সড়ক পথ গুরে বরিশাল শহরে আসতে হবে। ভোগান্তির যেন শেষ নেই।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মরহুম শওকত হোসেন হিরন, মেয়র থাকা কালিনী সময় সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কাথা বিবেচনা করে বরিশাল নদী বন্দর চারকাউয়া খেয়াঘাটের ঘাট ইজারা বন্ধ করে দেয় । এতে পূর্ব অঞ্চলে সস্তিতে যাতায়াত করলেও এখন যাতায়াতের বিঘ্নিতা ঘটাচ্ছে বরিশাল নদী বন্দর বিআইডব্লিউটিএ। এবং সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে ক’য়েক লাখ টাকা খরচে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করেছে।
চরকাউয়া খেয়াঘাটের যাত্রী ও দৃশ্যমান স্থাপনা সৌন্দর্য ভেঙ্গে বরিশাল নদী বন্দর বিআইডব্লিউটিএ, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নদীর বন্দরে উন্নয়ন মুলক কাজ চলমান রয়েছে ।
কিন্তু সাধারন মানুষের দাবি ঐতিহ্যবাহী চরকাউয়া খেয়াঘাট ডিসি ঘাটের ওখানে নিলে তাদের ভোগান্তি কোন শেষ নেই। কারন ওখানে রয়েছে সিটি মার্কেট পাইকারি কাঁচা বাজার, ডিসি ঘাট, স্প্রিডবোর্ড ঘাট, নৌবাহিনীর ঘাট এবং সকল ধরনে পন্যবাহী যানবাহন চলাচল করে থাকে। তাই ওখানে মানুষের চলাচলের উপযোগী না।
স্থানীয় আব্দুল হাই বলেন, চরকাউয়া খেয়াঘাটটি এখানেই রাখার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাবি জানাই,কারণ এই ঘাটটি অনেক পুরানো আমাদের চলাচলের জন্য সুবিধা হয়।

এ বিষয়চরকাউয়া খেয়াঘাটের মাঝি মাল্লা সমিতির সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, চরকাউয়া খেয়াঘাট এটি ঐতিহ্যবাহী একটি ঘাট, এ ঘাট থেকে পূর্ব অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের চলাচলের ভরসার স্থান । এ ঘাট নিয়ে কোন পায়তারা করলে কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। এ ঘাট এখানেই থাকবে, অন্য কোথাও নেয়া যাবে না। আর আমার সেটা মানবো না।
চরকাউয়া খেয়াঘাটের মাঝি মাল্লা সমিতির সাধারণ সম্পাদক আওলাত হোসেন বলেন, খেয়াঘাটটি অনেক পুরানো, এটি আমরা কোন দিনই অন্য যায়গায় নিতে দেব না। আমাদের স্থানীয়দের সাথে কথা হইছে। আমরা এট কোন দিনই মানবো।

এ বিষয় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এস এস আর গ্রুপের দায়িত্বরত ইন্জিনিয়ার আরমান বলেন,বরিশাল নদী বন্দরে উন্নয়নে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নকৃত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। কিন্তু আমরা সরকারি উন্নয়ন মূলক কাজ করছি, ঘাটের কেনো ধরনের ক্ষতি করতেছি না। সাধারণ মানুষে চলাচলের জন্য দুই পাশের রাস্তা নিরাপত্তা দিচ্ছি।
এ বিষয় বরিশাল নদী বন্দর বিআইডব্লিউটিএ দায়িত্বরত উপ- পরিচালক রাজ্জাক হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ আলোচনা চলছে, যতদ্রুত সম্ভব ভালো একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ২৭৬