
আলোকিত সংবাদ ডেস্ক :: বরিশাল বিআরটিএ (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) অফিসে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত দালাল চক্রের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বৈধভাবে গাড়ির কাগজপত্র নবায়ন, ফিটনেস সার্টিফিকেট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে আসা সাধারণ মানুষকে নিয়মিত হয়রানি করছে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র।
ভুক্তভোগী রুবেল জানান,আমি নিজে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করি এবং পরীক্ষার তারিখ পড়ে ১১ তারিখে। কিন্তু পরীক্ষায় ফেল করানো হয় আমাকে। তখন এক ব্যক্তি এসে বলেন, তিনি বিআরটিএতে কাজ করেন এবং কিছু টাকা দিলে পরীক্ষায় পাশ করিয়ে লাইসেন্সের ব্যবস্থা করে দেবেন। তিনি জানান, উপরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতে হবে, তাই টাকা লাগবে।
বিআরটিএ অফিসে সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে, সেখানে দালাল চক্রের কয়েকজন সদস্যকে দেখা যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলো হল আলাউদ্দিন, মেহেদী, রিয়াজ, ইমরান ও মোকলেছুর রহমান। এদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এরা কেউ বিআরটিএ’তে চাকরি করেন না, তবে তারা বিভিন্ন কাজের জন্য অফিসে আসা মানুষকে সাহায্য করে এবং বিনিময়ে টাকা নেয়।
দালাল চক্রের সদস্য মেহেদী হাসান জানান, আগে আমি আনসার সদস্য হিসেবে কাজ করতাম, এখন গাড়ির শোরুমে চাকরি করি। প্রতিদিনই বিআরটিএতে আসি। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি আনসার সদস্য পদে থাকার সময় থেকেই দালালির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং এখনো তা চালিয়ে যাচ্ছেন।
একইভাবে আলাউদ্দিন বলেন,আমি আগে শাহ আলমের গাড়ি চালাতাম, এখন কেউ সাহায্যের জন্য আসলে কাজ করে দেই। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, টাকা নেশায় জড়িয়ে এখনো বিআরটিএতে দালালি করছেন।
মোকলেছুর রহমান, যিনি নিজেকে সংবাদকর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন,আমার কিছু আত্মীয়স্বজন আছে, তাদের কাজ করতে মাঝে মাঝে সাহায্য করি। মোকলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে সংবাদকর্মী পরিচয় দিয়ে বিআরটিএ’র কর্মকর্তাদের জিম্মি করে দালালি করার অভিযোগ উঠেছে।
মালিকানা পরিবর্তন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত. ওহেদুজ্জামান বলেন,যাদের নাম আপনারা বলছেন,আলাউদ্দিন, মেহেদী, রিয়াজ, ইমরান, মোকলেছুর রহমান তাদের আমি চিনি না। তবে কিছু লোকজন গাড়ীর কাগজপত্র নিয়ে আসে। এদের মধ্যের কেউ কি না তা আমার জানা নেই।
অন্যদিকে, ফিটনেস শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত আব্দুস সালামের কাছে দালাল চক্র নিয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বরিশাল বিআরটিএ’র বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৌরভ কুমার সাহা বলেন,আমাদের অফিসে কোনো দালাল নেই। আপনারা যাদের নাম বলছেন, তাদের আমি চিনি না। কেউ যদি এখানে আসে, আমরা যাচাই করি সে নিজস্ব কাজে এসেছে নাকি অন্যের কাজ করছে। তবে সব সময় চেক করা সম্ভব হয় না।
বরিশাল বিআরটিএ অফিসে সাধারণ মানুষের বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ ও নবায়ন করতে এসে দালাল চক্রের হয়রানিতে পড়তে হচ্ছে। যদিও বিআরটিএ কর্মকর্তারা দালালদের চেনেন না বলে দাবি করেন, তবু কার্যক্ষেত্রে দালাল চক্রের সক্রিয়তা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু দালাল চক্রের এক ভাগ যায় কর্মকর্তার পকেটে।
সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ২৮৮