
নিজস্ব প্রতিবেদক : ঝালকাঠির নলছিটিতে কুশঙ্গল নিকারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম হোসেনের বিরুদ্ধে ঘূর্নিঝড় রেমালের বরাদ্দকৃত টাকা আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত বছরে ২৬ মে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। এতে নিকারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের ওপর গাছ পড়ে এক পাশের কিছু অংশ ভেঙে যায়। তবে আবেদনে দেখানো হয় পুরো সীমানা প্রাচীর গাছ পড়ে ভেঙে গেছে এবং পুরাতন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা মেরামত বাবদ স্কুলটিকে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করে সরকার।
তবে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়ে নতুন ভবন হওয়ায় পুরাতন ভবনটি অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেখানে কোন কার্যক্রম পরিচালনা হয় না। পুরাতন ভবনে গাছ পড়ে ক্ষতি হওয়ার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পরিত্যক্ত ভবনে ক্ষয়ক্ষতি দেখিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাত করেছে প্রধান শিক্ষক সেলিম হোসেন। এমন ঘটনা জানাজানি হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘূর্নিঝড় রেমালের ৮ মাস পার হলেও বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হয়নি। প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম হোসেন ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) অনিতা রানী দত্তের যোগসাজশে কাজ না করেই বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মো. সোহেল নামে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন এক শিক্ষার্থী জানান, প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম হোসেন সপ্তাহে ২/৩ দিন নামমাত্র কিছু সময়ের জন্য বিদ্যালয়ে আসেন। সবার সাথে দেখা সাক্ষাৎ করে আবার চলে যায়। বিদ্যালয়ে পড়ালেখার কোন শৃঙ্খলা নেই। সকল শিক্ষকেরা ১১টার পরে বিদ্যালয়ে আসেন। এ কারণে ওই এলাকার অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে পার্শ্ববর্তী বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে নিয়ে লেখাপড়া করান।
আসলাম শিকদার নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ঘূর্ণিঝড় রেমালে ভাঙা বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভাঙা অংশ সেভাবেই পড়ে আছে। কোন মেরামতের কাজ হয়নি। শুনেছি বিল তুলে নিয়েছে প্রধান শিক্ষক।
অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে কুশঙ্গল নিকারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম হোসেন বলেন, আমার ভাই উপসচিব। এগুলা নিয়ে বেশি ঘাটাঘাটি করলে চাঁদাবাজি মামলা করবো।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আ.ব.ম আসাদুল আলম বলেন, ঘটনার সত্যতা পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২০২৩ সালের ৩ এপ্রিল বিদ্যালয়ের মেরামত ও শিক্ষার গুনগতমান উন্নয়নের জন্য বরাদ্দের টাকা অনিয়মের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক সেলিম হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয় উপজেলা শিক্ষা অফিস। অভিযোগের তদন্ত করতে গেলে প্রধান শিক্ষক সেলিম হোসেন একজন সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। এছাড়াও বিগত দিনে প্রধান শিক্ষক সেলিমের বিরুদ্ধে অসংখ্য দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ১৯৪