
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল সিটি করপোরেশন কর্তৃক প্লান অনুমোদনে জটিলতা ও হয়রানির প্রতিবাদে বরিশালে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করে নাগরিক অধিকার আন্দোলন।
সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
বরিশাল নাগরিক অধিকার আন্দোলনের আহবায়ক মিজানুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. আবু সালেহ্ ও যুগ্ম আহবায়ক হাফিজুর রহমান হীরা, গোপাল চন্দ্র সাহা, ইঞ্জি. আকতার হোসেন, ইঞ্জি. জাহিদুল ইসলাম, নিয়াজ মাহামুদ বেগ, মো. আলাউদ্দিন মোল্লা, ইঞ্জি. আবু সালেহ্সহ ব্যাবসায়িরা।
এসময় বক্তারা বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় ভবন নির্মাণে দীর্ঘদিন ধরে এলইউসি ও প্লান দেয়া বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন শ্রমিক বাসিন্দারা।
প্লান অনুমোদনের জন্য নগর ভবনে গেলে বিভিন্ন ধরণের হয়রানির শিকার হতে হয়। বিশেষ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ না দিলে ফাইল ধরেন না। এমনকি বিগত দিনে মেয়র-কাউন্সিলরদেরও পার্সেন্টিজ দিয়ে প্লান পাস করাতে হতো। শুধু ঘুষেই সীমাবদ্ধ ছিল না, রাজনৈতিক দল বিবেচনায় ভবন নির্মানের প্লান দেওয়া হতো। অথচ নগরবাসীর সেবার জন্য নগর ভবনকে চালিয়ে রাখছে নগরবাসী।
কিন্তু নগরভবনে সেবা নিতে এসে পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হয় নগরবাসীর। বক্তারা বলেন, ইমারত নির্মান বিধিমালা ১৯৯৬ এর উপ-বিধি (৭) অনুসারে ৪৫ দিনের মধ্যে প্লান অনুমোদন দেয়া ও গেজেট বহির্ভূত ও অকার্যকর মাস্টার প্লানের অজুহাত দাড় করানো বন্ধ করতে হবে।
শহরের অধিকাংশ রাস্তার প্রশস্ততা কম থাকায় গতানুগতিক ও প্রচলিত নিয়মে প্লানের অনুমোদন দিতে হবে। ইমারত নির্মান বিধিমালা ১৯৯৬ বহির্ভূত ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র প্রথা বাতিল করতে হবে।
বিধিমালা ১৯৯৬ এর তফসিল-২ অনুসারে প্লান অনুমোদনের ফি নির্ধারন করতে হবে। যে সমস্ত এলাকায় কিংবা বাড়িতে পানির সরবরাহ লাইন সংযোগ করা হয়নি সেই সব এলাকার জনগনকে পানির বিল হইতে অব্যহতি দিতে হবে।
ভবনে বসবাস শুরু করার পূর্ব পর্যন্ত হোল্ডিং ও পানির বিল নেয়া যাবে না। প্লান অনুমোদনসহ সকল ধরনের সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করতে হবে।
পূর্বে ভরাটকৃত ব্যক্তিগত রেকর্ডিয় জমির শ্রেনীতে পুকুর উল্লেখ থাকলে প্লান অনুমোদন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। খালের পাড়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের রেকর্ডিয় জমির ক্ষেত্রে ইমারত নির্মানে জমি ছাড়ের ক্ষেত্রে যুক্তিসংগত ও বাস্তব ভিত্তিক সমাধান করতে হবে।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বরিশাল সিটি করপোরেশণের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ১৯০