
বরিশাল: পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে ব্যাপক রদবদল করেছে সরকার। এ দফার বদলির অংশ হিসেবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) নতুন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত ডিআইজি আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহকে। একই সঙ্গে বর্তমান কমিশনার ডিআইজি মো. আশিক সাঈদকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ পুলিশের ছয়জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বদলি ও নতুন পদায়নের আদেশ দেয়া হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বর্তমানে বিএমপির কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ডিআইজি মো. আশিক সাঈদকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ।
একই আদেশে আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার দায়িত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)-এর ডিআইজি মো. ইকবাল হোসেনকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হককে শিল্পাঞ্চল পুলিশের ডিআইজি এবং রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহানকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের দ্রুত নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নতুন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ এর আগে পুলিশ সদর দপ্তরে ডিআইজি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতা বরিশাল মহানগর পুলিশের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
অন্যদিকে, বর্তমান কমিশনার ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ বরিশালে দায়িত্ব পালনকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান, অপরাধ দমন এবং নাগরিকবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এবার তাকে গুরুত্বপূর্ণ রাজশাহী রেঞ্জের নেতৃত্বে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
নতুন কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক নির্মূল, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং জনবান্ধব পুলিশি সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ৬৫