
নিজস্ব প্রতিবেদক,বরিশাল::বরিশালে তালাক প্রাপ্ত সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার ঘটনা তুলে ধরে থানায় অভিযোগ করে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগী নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালী মডেল থানায় কর্মরত এএসআই জাকির হোসেন বলেন, নগরের ১০নং ওয়ার্ড কেডিসি (বালুরমাঠ)কলোনীর বাসিন্দা মোঃ খলিল হাওলাদার তার সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে সংসারে থাকাকালীন বিভিন্ন সময় টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। আমি এঘটনায় তার স্ত্রীকে ফোন করে থানায় ঢেকেছি ,কিন্তু কোনো হয়রানি করার ঘটনা ঘটেনি।
ভুক্তভোগী নারী নগরীর ১০নং ওয়ার্ড কেডিসি (বালুরমাঠ)কলোনী এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল শিকদারের মেয়ে সিসেম ফাতেমা বেগম (ময়না)।
ময়না বেগম বলেন, আমাদের উভয় পক্ষের পূর্বে বিবাহ ছিল এবং পূর্বেই উভয়ের ঘরে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। আমি তিন লক্ষ টাকা দেনমোহরে খলিল হাওলাদারের সাথে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই।
কিন্তু খলিল হাওলাদার আমাকে দিয়ে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার জন্য,মাদকের ব্যবসা লিপ্ত করেন। আমি অসহায় হয়ে তার কথামতো এই মাদকের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছি। এতে-ও সে খুশি নয়, তার আরো টাকার প্রয়োজন এর জন্য আমাকে দিয়ে অপরিচিত পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য চেষ্টা করে। আমি তার কথা না শুনলে শারীরিক মানসিক টর্চার করেন।
এছাড়াও নগরের বিভিন্ন স্থানে ফ্লাট বাসা ভাড়া নিয়ে, মাদকদ্রব্য সেবন, বিক্রি করাহস পুলিশ প্রশাসন, ও সাংবাদিক ম্যানেজ করে মেয়েদের দিয়ে অনৈতিক ব্যবসা চালাচ্ছে। আমি তাকে এসব ব্যবসা থেকে সরে যেতে প্রতিবাদ করলে আমাকে মারধর শুরু করেন। এই মারধর হইতে না পেরে গত(২৫ মার্চ) ২০২৫ সালে,মোকাম বরিশাল বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এর নোটারির মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ করা হয়।
এরপর উভয় পক্ষই আলাদাভাবে জীবনযাপন করতে শুরু করি। কিন্তু বেশ কয়েক মাস কেটে গেলেও কিছুদিন ধরে খলিল হাওলাদার,ময়না বেগমের সাথে পূর্ণরায় সংসার করার জন্য স্থানীয় কাউন্সিলর ও বিএনপির নেতাদের মাধ্যমে চেষ্টা করেন।
খলিলের সাথে সংসার করতে অস্বীকার প্রকাশ করলে ময়না বেগমের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (facebook) ফেসবুকে পোস্ট করে হয়রানি করা শুরু করেন।
সামাজিক মাধ্যমে হয়রানি করতে ব্যর্থ হয়ে,পরবর্তীতে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালী মডেল থানায় বিবাহ বিচ্ছেদের ছয় মাস পরে তার সাবেক স্ত্রী ময়না বেগম টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে একটি লিখিত অভিযোগ করায়,থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা ফোন দিয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ তুলে ময়না বেগম তার স্বামীর বিরুদ্ধে।
এছাড়াও তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বর্তমানে তার সাবেক স্বামী খলিল হাওলাদার মিথ্যা ভিত্তিহীন বানোয়াট অভিযোগ দিয়ে তাকে হয়রানি করছে। যদি এই টাকা আত্মসাৎ এর ঘটনা সত্য হয়ে থাকে তাহলে ময়না বেগমের বিরুদ্ধে আইনগত যে পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে তা মাথা পেতে নিবে। আর যদি এ ধরনের কোন ঘটনার সাথে ময়না বেগম জড়িত না থাকে তাহলে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে খলিল হাওলাদার পুলিশ সদস্যদ ও তাকে যে হয়রানি করছে তার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করেন।
সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ২০৮