
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল ::বরিশালের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত টিকটকার মাহিয়া মাহির হারিয়ে যাওয়া একটি আইফোন উদ্ধার করে তাঁর কাছে হস্তান্তর করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাত ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে মাহিয়া মাহির হাতে আইফোনটি হস্তান্তর করেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর মাহি তাঁর আইফোন হারানোর অভিযোগে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং–১৪৯) করেন। এরপর দুই মাসের মধ্যেই থানার এএসআই শহিদুল ইসলাম ফোনটি উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
ফোনটি হাতে পেয়ে মাহি নিজ ফেসবুক পেজে একটি ছবি পোস্ট করেন। তবে সেই পোস্টের পরপরই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন—সাধারণ মানুষের হারানো ফোনের খোঁজ পুলিশ দিতে না পারলেও পরিচিত মুখদের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
মো. রাসেল হোসেন নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “ওদের মোবাইলগুলোই খুঁজে বের করে দিবে। আর পাচ মাস হলো আমি একটা জিডি করেছি, কোনো খোঁজ নেই।”
তামিম হাসান নিবৃত্ত মন্তব্য করেন, “আমাগো ফোন হারাইলে তখন আর খুঁজে পায় না, টিকটকারগো ফোন হারাইলে ঠিকই পায়।”
অন্যদিকে আমির হোসেন সাব্বির লিখেছেন, “আমার ফোন ১ বছরেও খুঁজে দিতে পারেনি পুলিশ।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত এক বছরে কোতোয়ালী মডেল থানায় হারানো ও চুরি হওয়া মোবাইলফোনের জন্য অসংখ্য সাধারণ ডায়েরি করা হলেও উদ্ধার হয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি।
নগরীর পুলিশ লাইন্স এলাকার বাসিন্দা মাসফি মারুফ অভিযোগ করে বলেন, “আমার অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা তেমন সহযোগিতা করেননি। তার ব্যবহার সত্যি দু:জনক।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণী জানান, “আমার আইফোনটি চুরি হওয়ার পর অভিযোগ করলেও আজ পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি। একটি মেয়ের ফোনে অনেক ব্যক্তিগত তথ্য থাকে। এসব তথ্য দিয়ে কেউ আমাকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারে—এটি ভেবে আতঙ্কে আছি।”
এদিকে জিহাদুল ইসলাম নামে এক প্রকৌশলী বলেন, “প্রায় এক বছর আগে লঞ্চঘাট এলাকায় ফোন হারিয়েছি। জিডি করেছি, সব কাগজ দিয়েছি, কিন্তু এখনো কোনো ফলাফল পাইনি।”
তবে বিষয়টি অস্বিকার করে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “ফোন হারানো বা চুরির পর যদি অন্য কোনো সিম ব্যবহার করা হয়, সেটি ট্র্যাক করা সম্ভব হয়। সব অভিযোগই আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখি, কাউকে প্রাধান্য দিয়ে নয়।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, “আইনের চোখে সবাই সমান—এই নীতির বাস্তব প্রয়োগ না হলে নাগরিক আস্থা ক্রমেই ক্ষয়ে যাবে।” তাদের মতে, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা তখনই সম্ভব, যখন রাষ্ট্রীয় সেবা ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ‘প্রভাব’ নয়, ‘নীতিনিষ্ঠা’ই হবে প্রধান নিয়ামক।
তবে সাধারণ নাগরিকদের প্রশ্ন থেকেই যায়—যেখানে সাধারণ মানুষের হারানো ফোন মাসের পর মাসেও উদ্ধার হয় না, সেখানে আলোচিত ব্যক্তিদের ফোন উদ্ধারে কি বিশেষ গুরুত্বে দেখা হয়?
সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ৫২২