
মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিনিধি ::: পুনরায় বিয়ের দাবীতে স্বামীর বাড়িতে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী মনিরা পারভীন (২০) এর অনশন করছেন।
তালাক দেওয়ার ৮৩ দিনের মাথায় ঈদের দিন থেকে স্বামীর বাড়িতে অনশন করে যাচ্ছেন ওই গৃহবধূ।
ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের শুকনাকাঠী গ্রামে। তার স্বামী রাকিব হোসেন সরদার তাকে তালাক দিয়েছে কিন্তু তিনি নিজেকে অন্তঃ স্বত্ত্বা দাবী করেন।
তাই আগত সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের জন্যই এই প্রতিবাদী অবস্থান নিয়েছেন নারী। এদিকে অনশন নেওয়া নারীর সমর্থনে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ জোটবদ্ধ হয়েছেন। তারা স্বামী রাকিব এর পরিবারকে বাধ্য করেছেন পুনরায় বিয়ে করতে। বুধবার রাকিব সরদারকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে যায় পাতারহাটে নিকাহ ও রেজিষ্টার্ড কাজী রুহুল আমিন এর অফিসে। সেখানে স্বামী রাকিবকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পুনরায় ৮ লাখ টাকার কাবিনে দ্বিতীয়বার বিবাহ রেজিস্ট্রি করা হয়।
এদিকে এই বিয়ে মানতে না পেরে আত্নগোপনে চলে যান স্বামী রাকিব হোসেন সরদার। এই বিষয়ে স্ত্রী মনিরা পারভীন বলেন, আমাদের দুজনের মধ্যে ইমোতে পরিচয় হয়ে পাঁচ বছর সম্পর্ক করি। সে আমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব নিয়ে আমাদের বাড়িতে তিনবার যায়। আমার মামা বলেছে গাইরজানের মাধ্যমে প্রস্তাব দিতে। এক বছর আগে আমাকে জোড় করে নিয়ে আসে। হাইকোর্টে বিয়ে পড়াইতে চেয়েছিলো টাকা বেশি লাগবে দেখে লঞ্চযোগে ঢাকা থেকে আমাকে তার বাড়িতে এনে অনুষ্টান করে মাধ্যমে বিয়ে হয়। কিছুদিন সংসার করি প্রথমে একটা বাচ্চা আসে তখন সে বলে বাচ্চা রাখবে না তাই নষ্ট করে দেয়। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার দিন দ্বিতীয় বাচ্চা ফালাইয়া দিলে আমি খুব অসুস্থ ছিলাম। আমাকে মেডিকেল ভর্তি করে চিকিৎসা করায়। ঢাকা একটি রুম ভাড়া করে সেখানে রেখে পালিয়ে আসে। আমি তাকে না পেয়ে বাড়িতে আসার জন্য দেবর এর সহযোগিতা চাইলে সে সহযোগিতা করেনি। এক পর্যায়ে আমি দেশে এসে দেখি সে বাড়িতে ঘুমায়।
তার আগে শশুর শাশুড়ী আমাকে বলেছিলো তার ছেলেকে পাওয়া না গেলে আমাকে মামলা দিয়ে জেল খাটানো হবে। পরবর্তীতে স্বামী আমাকে বলে তুমি কোরআন শরিফ পড়া শিখো। তবে তার বাড়িতে থেকে শিখলে তালাক দিয়ে দিবে আর যদি বাপের বাড়িতে গিয়ে কোরআন শরিফ শিখি তাহলে তালাক দিবো না। এতে প্রথমে রাজি না হওয়ায় মারধর করে। পরবর্তীতে যেতে রাজি হলে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আমাকে নিয়ে আমার বাপের বাড়ি রংপুর জেলার কাউনিয়া থানার সিবু গ্রামের বড়ুয়াহাট এলাকায় যায় স্বামী। সেখানে আমার সাথে ৫দিন থেকে আমাকে একটি মাদরাসায় ভর্তি করে দিয়ে আসে ।
পাঁচ দিন পরে চলে যাওয়ার সময় আমাকে একটি তালাকের কপি দিয়ে আসে। আমি স্বামীকে বলেছিলাম আমি অন্তঃ স্বত্ত্বা। আমার পেটে বাচ্চা আছে বলার পরও আমাকে তালাক দিয়েছে। তালাক দেওয়ার ৮৩ দিনের মাথায় ৩১মার্চ ঈদের দিন স্বামীর বাড়িতে আসি। তখন আমার শাশুড়ী দেবর আমাকে মারধর করে আমার মোবাইলের ডকুমেন্ট নস্ট করে দেয়। সারারাত বাহিরে দাঁড় করিয়ে রাখে। এক পর্যায় গত বুধবার (২এপ্রিল) গ্রামের লোকজনের সহায়তায় স্বামীকে ধরে নিয়ে ৮ লাখ টাকার কাবিনে পুনরায় বিয়ে করি।
স্বামী রাকিব হোসেন সরদার বলেন আমাদের প্রেমের সম্পর্কের সুত্র ধরে বিবাহ হয়। স্ত্রীর পরকিয়া ধরা পড়ার তার বাবা মাকে জানাই। আমার শশুর শাশুড়ী ঘটনার কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাকে ডির্ভোস দেই। এখন আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ও তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ঈদের দিন আমাদের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে বেআইনি ভাবে স্বামীর অধিকার দাবি করে। লোকজন ভাড়া করে আমাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে মারধর করে পুনরায় ৮লাখ টাকার কাবিনে আমাকে বিয়েতে রাজি করে। তাদের মারধরে আমি আর আমার বাবা আহত হয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছি। আমি এই বিয়ে মানি না। আইনের আশ্রয় গ্রহণ করিবো।
শশুর ইউসুফ আলী সরদার বলেন, আমার ছেলে বউকে তালাক দিয়েছে। এরপরও বউ লোকজন নিয়ে আমার ঘরে ওঠে। ঘরে ভাংচুর করে এবং আমাকে মারধর করে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আমাকে এবং আমার ছেলেকে মারধর করে ব্ল্যাংক স্টাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে জোড়পুর্বক দ্বিতীয় বিবাহ করায়।
স্থানীয়রা বলেন, অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রীকে ধারাবাহিক নির্যাতনসহ তালাক দেওয়াই মানবিক কারনে আমরা ওই নারীর পাশে দাঁড়িয়েছি। আলেম ওলামার পরামর্শ নিয়ে তাকে পুনরায় বিয়ে করানোর ব্যবস্থা করাইয়াছি।
মেহেন্দিগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, স্বামীর অভিযোগ পেয়েছি, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ২৫৬