
নিজস্ব প্রতিবেদক:: বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কোতয়ালী মডেল থানাধীন স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিহির চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে মাদক নির্মূলে জোরালো ও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত কয়েক দিনে ফাঁড়ি ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী এবং সেবনকারীসহ পাঁচশতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের পাশাপাশি অনেককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সাজা দেওয়া হয়েছে বলে ফাঁড়ি সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, এসআই মিহির চন্দ্র দাস স্টিমারঘাট ফাঁড়ির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মাদকবিরোধী তৎপরতা জোরদার করেন। পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযানের ফলে নগরীর দীর্ঘদিনের আলোচিত ও অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত কেডিসি, রসুলপুর, পোর্টরোড এবং ভাটারখাল এলাকার মাদক সিন্ডিকেটের তৎপরতা আগের তুলনায় দৃশ্যমানভাবে কমে এসেছে।
অভিযানের পাশাপাশি এলাকায় অপরাধ দমনে পুলিশি নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। একই সাথে ছোটখাটো চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফাঁড়ি পুলিশ। এছাড়া স্থানীয় ছোটখাটো সামাজিক বিরোধগুলো বড় কোনো সংঘাতে রূপ নেওয়ার আগেই উভয় পক্ষকে ডেকে আইনি প্রক্রিয়ায় মীমাংসার উদ্যোগ নিচ্ছে পুলিশ, যা সচেতন মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।
মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে বরিশাল নগরীর সাবেক কাউন্সিলর ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. হারুন আর রশীদ বলেন, “শহর ও আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী তৎপরতা এখন দৃশ্যমান। পুলিশের এই অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতাও বাড়ছে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক নির্মূল শুধু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। বর্তমান এই সম্মিলিত পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন এবং পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে বরিশাল নগরীকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে।
স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিহির চন্দ্র দাস জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। নগরীকে নিরাপদ ও মাদকমুক্ত রাখতে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে এই চিরুনি অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ৫৩