• ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নগরীতে ট্রাংকচাপায় পা বিচ্ছিন্ন, ৩ পয়েন্টে ফুটওভার ব্রিজের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে বরিশালবাসী

"আলোকিত সংবাদ ডেস্ক"
প্রকাশিত জুলাই ২৯, ২০২৬, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
নগরীতে ট্রাংকচাপায় পা বিচ্ছিন্ন, ৩ পয়েন্টে ফুটওভার ব্রিজের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে বরিশালবাসী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

রিপন রানা,বরিশাল :: বরিশালের অত্যন্ত ব্যস্ত ও জনবহুল তিন এলাকা—চৌমাথা, নথুল্লাবাদ এবং রূপাতলীতে দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের এই তিন পয়েন্টে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা দুর্ঘটনা রোধে অবিলম্বে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রশাসন ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন বরিশালবাসী।

আজ (২৮ জুলাই) বরিশাল নগরের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা এলাকায় ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনার পর এই দাবি আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। মেয়েকে পরীক্ষার হলে পৌঁছে দিয়ে পাশের আল-আকসা জামে মসজিদে জোহরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় জামাল নামে এক ব্যক্তিকে একটি দ্রুতগামী ট্রাক চাপা দেয়। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার বাম পা শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় শিক্ষার্থী ও পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করে।

এই দুর্ঘটনার পরপরই সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ দেখা দেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চৌমাথা, নথুল্লাবাদ এবং রূপাতলী—এই তিন পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হন। মহাসড়কের তীব্র যানজট, বাই-লেনের অব্যবস্থাপনা এবং দূরপাল্লার দ্রুতগামী বাস ও ট্রাকের বেপরোয়া গতির কারণে এই এলাকাগুলো এখন একেকটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

বরিশালবাসী জানান, নিরাপদ পারাপারের জন্য পর্যাপ্ত ট্রাফিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় প্রতিনিয়ত এখানে তাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে এবং বহু মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। অবিলম্বে এই তিন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আধুনিক ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের প্রাণহানি ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

সাধারণ জনগণ এই বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের জরুরি ও দৃশ্যমান হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।