
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চল এলাকার উর্বর জমি আর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে প্রতি বছরের চেয়ে এবার আগাম জাতের তরমুজ ভালো ফলন হয়েছে। রমজান উপলক্ষে বাজার দর ভালো থাকায় চলতি মৌসুমে উপজেলায় চাষ হওয়া আগাম জাতের তরমুজ বিক্রি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা শহরের এলাকায়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাউফলে চলতি মৌসুমে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর আগাম জাতের। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রমজান উপলক্ষে তরমুজের ব্যাপক চাহিদা থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আড়তদাররা ভীর করছেন উপজেলার তরমুজ
চাষিদের কাছে। ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি সময় থেকেই বাজারে উঠতে শুরু করেছে আগাম জাতের তরমুজ, যা ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, কুষ্টিয়াও সিলেট অঞ্চলে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। উপজেলার তেতুঁলিয়া নদীর তীরবর্তী চর বেষ্ঠিত চন্দ্রদ্বীপ, কালাইয়া, কেশবপুর, নাজিরপুর, ধুলিয়া এলাকায় ব্যাপক ভাবে চাষ হয়েছে তরমুজ। আবহাওয়া অনুকুলে
থাকায় চলতি মৌসুমে ফলনও ভালো হয়েছে। চন্দ্রদ্বীপের কৃষক মো. সিদ্দিককুর রহমান বলেন, ৩ একর জমিতে আগাম জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। প্রতি একরে তার সর্বসাকুল্যে খরচ হয়েছে ১লাখ ৩৫ হাজার টাকা।প্রতি একরে গড়ে ১৪০০ থেকে ১৫০০ পিচ তরমুজ পাওয়া যায়। রমজানে তরমুজের চাহিদা বেশি থাকায় আড়তদাররাপ্রতি একর তরমুজ খেত সারে৩ থেকে ৪লাখ টাকায়কিনে নিচ্ছেন। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে বিগত বছরের চেয়ে ভালো লাভে আশা করছেন তিনি।
চরকালাইয়া এলাকায় আগাম জাতের তরমুজ চাষ করেছেন মো. হান্নান প্যাদা। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে ৪ একর জমিতে আগাম জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। রমজান উপলক্ষে ঢাকার এক আড়ৎদারের কাছে চার একর খেতের সব তরমুজ ঠিকা বিক্রি করে দিয়েছে।
তাতে তার বিগত বছরের চেয়ে বেশি লাভ হয়েছে খুলনা থেকে তরমুজ কিনতে এসেছেনআড়তদার সাহেব আলী প্যাদাবলেন, বাউফলের তরমুজের স্বাদ ও মিষ্টতা ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা সরাসরি খেতে এসে কিনছেন। ঢাকার কাওরান বাজার থেকে বেপাড়ি আব্দুল গনি সিকদার বলেন, বাউফলের চরাঞ্চলের এলাকার তরমুজ সুমিষ্ট কয়েকবছর ধরে এই এলাকায় আসি তরমুজ কেনার জন্য। বিশেষ করে আগাম জাতের তরমুজ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, বাউফলের মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নত বীজ সরবরাহ ও নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়ার ফলে আগাম উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ৬৬