
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরগুনার পাথরঘাটায় দীর্ঘদিন ধরে হরিণ শিকারের অভিযোগে মো. হানিফা নামের এক ব্যক্তি গত সোমবার (৩ মার্চ) রাত আড়াইটার দিকে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বাদুরতলার খাল এলাকা থেকে দুটি জবাই করা হরিণসহ গ্রেপ্তার হন।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার স্ত্রী শাহীনুর বেগম কাজি অফিসে গিয়ে স্বামীকে তালাক দেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩ মার্চ দুপুরে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মো. হানিফা পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের হাঁড়িটানা গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে। তার স্ত্রী শাহীনুর বেগম পাথরঘাটা পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলমের (মাইক শাহ আলম) মেয়ে। বিবাহের পর দম্পত্তি পাথরঘাটা পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করতেন।
পাথরঘাটা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম শরীফ জানান, হানিফা আগে ছোট ট্রলারে মাছ ধরতেন। তবে তিনি কবে থেকে হরিণ শিকার করেন, তা স্পষ্ট জানা নেই। দুটি জবাই করা হরিণ ও শিকার ফাঁদসহ গ্রেপ্তারের পর তার স্ত্রী তালাক দিয়েছেন। তালাকের অনুলিপি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে পাঠানো হয়েছে।
বনবিভাগের পাথরঘাটা রেঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদে পাথরঘাটা কোষ্টগার্ড ও সদর বিটের বনপ্রহরীদের যৌথ অভিযানে বিষখালী নদী সংলগ্ন বাদুরতলা খাল এলাকা থেকে হরিণের ৯টি ফাঁদসহ দুটি জবাই করা হরিণ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মো. হানিফাসহ একটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলারও আটক করা হয়।
পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. পনির শেখ ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে মো. হানিফাকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে হরিণ দুটির চামড়া ও শিং সংরক্ষণ করা হয়েছে, আর মাংস কেরোসিন মিশিয়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। হরিণের আকৃতি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এ হরিণগুলো হরিণঘাটা সংরক্ষিত বন থেকে ধাওয়া করা হয়েছিল। এই ঘটনায় বনবিভাগের পাথরঘাটা সদর বিট কার্যালয়ের বাগান মালি জহিরুল ইসলাম জানান, ধরা পড়ার পর তার বোন শাহীনুর বেগম স্বামীকে তালাক দিয়েছেন।
সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ৭