
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতার মারধরের শিকার মো. ইদ্রিস (৩৫) নামের এক সবজি বিক্রেতার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইদ্রিসের স্বজনরা মরদেহ থানায় নিয়ে আসেন। এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজারে যুবদলের কার্যালয়ে তাকে মারধরের ঘটনা ঘটে। মো. ইদ্রিস (৪৫) ওই এলাকার দৌলতপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ খানের ছেলে।
পরিবারের অভিযোগ, উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম এবং তার সহযোগীদের মারধরে গুরুতর আহত হন ইদ্রিস। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইদ্রিস ঢাকায় সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে তিনি জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গরু চুরি ও অন্যান্য অপকর্মের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জহিরুল ইসলাম তাকে মারধর করেন বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি ঢাকা থেকে বাড়িতে আসার পর ২৬ ফেব্রুয়ারি পাখিমারা বাজারে গেলে জহিরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা তাকে ডেকে নিয়ে যুবদলের কার্যালয়ে ব্যাপক মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকায় নিয়ে যান। নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাকে বাসায় নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে সোমবার রাত ১০টার দিকে তিনি পুনরায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ইদ্রিসের ছেলে পারভেজ জানান, তার বাবা অভিযুক্ত নেতার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন ও ফেসবুকে কোনো আপত্তিকর মন্তব্য করেননি বলে দাবি করেছিলেন।
তবুও তাকে মারধর করা হয়। পারভেজের অভিযোগ, একপর্যায়ে তার বাবাকে হুমকি দিয়ে এলাকায় না থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। ইদ্রিসের স্ত্রী আমেনা খাতুন বলেন, মারধরের পর থেকেই আমার স্বামী বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের কথা বলছিলেন। আমরা নিঃস্ব হয়ে গেলাম, সন্তানরা এতিম হয়ে গেল, আমরা বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জহিরুল ইসলাম বলেন, ইদ্রিস তার কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছিলেন। তবে তিনি বা তার সহযোগীরা কোনো মারধর করেননি। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে ও এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ১