• ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টিকটকে পরিচয়, সন্তান রেখে উধাও দুই নারী

"আলোকিত সংবাদ ডেস্ক"
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ২০:৪৩ অপরাহ্ণ
টিকটকে পরিচয়, সন্তান রেখে উধাও দুই নারী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: টিকটক থেকে পরিচয় হয় ভৈরবের মেয়ে নদী (১৮) ও ফেনীর মেয়ে ফারহানা (২৩) নামের দুই নারীর। দিনভর মোবাইলে কথোপকথন থেকে সম্পর্ক গভীর হয় তাদের।গত ৮ ফেব্রুয়ারি ভৈরব থেকে স্বামীর সংসার ও ১৫ মাসের বাচ্চা রেখে পালিয়ে যায় নদী। এ বিষয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভৈরব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে থানা সামনে কথাগুলো বলছিলেন স্বামী কাউসার মিয়া।

স্বামী কাউসার মিয়ার নিজ বাড়ি উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ছনছাড়া গ্রামে। তিনি একজন পাদুকা শ্রমিক। ভাড়া থাকেন উপজেলা পরিষদসংলগ্ন পাদুকা মার্কেট এলাকায়। তার স্ত্রী নদী বেগমের বাড়ি একই ইউনিয়নের টানকৃষ্ণনগর গ্রামে। অপর দিকে অভিযুক্ত নারী ফারহানা বেগমের শ্বশুর বাড়ি নোয়াখালী জেলা সেনবাগ থানার রাজারামপুর এলাকায়।

কাউসার মিয়া বলেন, ‘আমি গত প্রায় ২ বছর আগে নদীকে বিবাহ করি। আমাদের বিবাহের পর আমাদের সংসার খুবই ভালো চলছিল এবং আমার স্ত্রীর সাথে সুসম্পর্ক ছিল। আমাদের ১৫ মাসের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আমার স্ত্রী টিকটকে আসক্ত ছিল। সেই সুবাদে নোয়াখালীর ফারহানা নামের এক নারীর সাথে পরিচয় হয়। তারা প্রতিনিয়ত ফোনে কথা বলত।

এমনকি আমিও মাঝে মধ্যে নোয়াখালীর মেয়ের সাথে কথা বলতাম। হঠাৎ আমার স্ত্রী গত ১ সপ্তাহ আগে আমার দুধের বাচ্চাকে আমার মায়ের কাছে রেখে আমার আলমারিতে রাখা ৭ হাজার টাকা এবং আমার মোবাইল ফোন নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। আমি নোয়াখালী যোগাযোগ করলে জানতে পারি সেই মেয়েটিও বাড়িতে নাই। আমরা উভয় পরিবারই থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আমার জন্য না হোক আমার দুধের বাচ্চার জন্য আমার স্ত্রীকে ফিরে পেতে চাই।’

ফারহানা বেগমের ভাই ফায়েজ মিয়া বলেন, ১ সপ্তাহ আগে আমার বোন তার ৪ বছরের মেয়েকে আমাদের বাড়িতে রেখে নিখোঁজ হয়েছে। ভৈরব থেকে কাউসার জানিয়েছে তার বউ বাড়িতে নাই। যদিও নদী ও ফারহানার মাঝে সুসম্পর্ক ছিল।

আমার বোনের শ্বশুর বাড়ির লোকজন বলছে কোনো এক ছেলের সাথে সম্পর্কের কারণে আমার বোন পালিয়েছে। বিদেশে আমার বোন জামাই কান্নাকাটি করছে। আমরা জানি না কীভাবে কী হয়েছে। আমরা চাই আমার বোন ও ভৈরবের মেয়েকে উদ্ধার করা হোক।’

ভৈরব থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, এক নারীর সাথে আরেক নারী কোথাও যাওয়া ভিন্ন ব্যাপার; কিন্তু তাদের সম্পর্কের বিষয়টাও ভিত্তি নেই। তবে নোয়াখালী এলাকার নারীর স্বামী যেহেতু বিদেশে থাকে সেটা সন্দেহজনক। এক মেয়ের প্ররোচনায় আরেক মেয়ে বিদেশ যাচ্ছে এমনও অনেক বিষয় থাকে। অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। দ্রুত উদ্ধার করা চেষ্টা চলছে।