
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে অবৈধ বালুর ড্রেজার সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের দ্বন্দ্বে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে টর্চ জ্বালিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
বুধবার (৪ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আব্দুল্লাপুর ইউনিয়নের পুলিন্দারপাড় ও বিন্দুসার এলাকার স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে কয়েক দফা এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই গ্রামের উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়ে স্থানীয় বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বিন্দুসার এলাকার ইকবাল হোসেনের পক্ষের সঙ্গে পুলিন্দারপাড় এলাকার কামাল সাউদ পক্ষের অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা নিয়ে বিরোধ চলছিলো দীর্ঘদিন যাবত। এরই জের ধরে বুধবার রাতে হঠাৎ করে উভয় পক্ষ কথা কাটাকাটির দ্বন্দ্বে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে হাতে থাকা টর্চ লাইট জ্বালিয়ে বিভিন্ন বাড়িতে হামলা চালায়।
অভিযোগ উঠেছে, সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পাশাপাশি এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা আরও জানান, সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ১০-১২ জন আহত হন। এরই জের ধরে বুধবার রাতে উভয় পক্ষ আবারো সংঘাতে জড়ায়। এসময় দুই গ্রামের মসজিদের মাইক ব্যবহার করে গ্রামবাসীকে সংঘর্ষে অংশগ্রহণের আহ্বান জানালে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এসময় টর্চলাইট জ্বালিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে স্থানীয়দের বাড়িঘর ভাঙচুর ও বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। দফায় দফায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. ফিরোজ কবির জানান, সহিংসতা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও জড়িতদের নাম পরিচয় শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে চেষ্টা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ বন্ধ করে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামবাসীর কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি একেবারে স্বাভাবিক রয়েছে। সেখানে টহল পুলিশের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ফলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ৭