নিজস্ব প্রতিবেদক ::: বরিশাল নগরীর চকবাজারে রাস্তার ওপরে দাড়িয়ে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন মধ্য বয়সী এক নারী। পরে তার স্বামী তাকে টেনে হিঁচড়ে একটি দোকানের মধ্যে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে পিচঢালা রাস্তার ওপর শুইয়ে দেন ওই নারীকে। পরে নারীর নাকে-মুখে জুতাপেটা ও লাথি মারতে মারতে ঘটনাস্থল থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। পথিমধ্যে প্রণয় রায় নামে পুলিশের এক কর্মকর্তা ওই দৃশ্য দেখে গাড়ী থামিয়ে ঘটনাস্থলেই নেমে পড়েন। এরপর থানা পুলিশকে অবহিত করলে ওই ব্যবসায়িকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে নির্যাতনের ওই ঘটনা প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ প্রত্যক্ষ করছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে নগরীর জেলা পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত সোলায়মান ফরাজি (৩০) দক্ষিণ চকবাজারে অবস্থিত সোলায়মান সুজ’র স্বত্বাধিকারী। বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের লামচড়ি গ্রামের ইউসুব আলীর ছেলে।
নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ সোলায়মান ফরাজির স্ত্রী আখি আক্তার বর্তমানে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আখি আক্তার নিঃসন্তান। তার বাবার বাড়ি বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের চর আবদানী গ্রামে। আখি আক্তার স্বামীসহ তার শ্বশুরালয়ে বসবাস করতেন।
এদিকে সোলায়মান ফরাজির বিরুদ্ধে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ আখি আক্তার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বলেন, গত পাঁচ বছর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে একই ইউনিয়নের বাসিন্দা সোলায়মান তাকে বিয়ে করেন। তবে গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার পর ঘরজামাই হিসেবে তার বাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন। পরে বিভিন্ন সময় টাকা-পয়সার জন্য সোলায়মান তার ওপর নির্যাতন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ব্যবসায় করার জন্য যৌতুকের লক্ষ্যে সোলায়মান আমার ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এসময়ে পাদুকা ব্যবসায়ের জন্য আমার পরিবারের কাছ থেকে নগদ দশ লক্ষ টাকা নেয়। সম্প্রতি সোলায়মান আবারও যৌতুকের টাকার জন্য ফের চাপ প্রয়োগ করেন। এমনকি দাবীকৃত যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করলে, সোলায়মান আমাকে আমার বাপের বাড়িতে ফেলে রেখে চলে যায়। দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ খবর নিচ্ছিলো না। ভরণপোষণও বন্ধ করে দেন সোলায়মান। যেকারণে আমাদের সংসারে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়।
তিনি বলেন- গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে স্বামীর কাছে খাবারের টাকা চাইলে সোলায়মান আমাকে বেদম মারধর শুরু করে। পরে আমি স্বামীর অত্যাচার থেকে পালানোর চেষ্টা করে নগরীর জেলা পরিষদের সামনে আসলে সোলায়মান আমার পথরোধ করে আবার বেদম মারধর করে।
এদিকে অভিযুক্ত সোলায়মান জানান, আমার স্ত্রী আখি আক্তারের সঙ্গে এখন কোনো রকমে সম্পর্ক নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, দক্ষিণ চকবাজার এলাকায় গত (৫ আগষ্ট) আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পড়ে বিএনপির কর্মী পরিচয় লোকমান ও সোলায়মান মিলে সাধারণ ফুটপাত ব্যবসায়ীদের হয়রানী করে আসছেন। এছাড়াও গত বৃহস্পতিবার লোকমানের দাপটে তার ছোটো ভাই সোলায়মান তার স্ত্রী আঁখি আক্তারকে রাস্তায় ফেলে প্রকাশ্যে জুতা পেটা করেন। আমরা ছাড়াতে গেলে আমাদের হুমকি দিয়ে থাকেন। এরা বিগত দিনে আ' লীগের দোসরদের সাথে বিভিন্ন প্রোগ্রাম করে এসে এখন বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে দাপিয়ে ত্রাস করছে। এতে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।
এ ব্যাপারে স্টিমারঘাট ফাঁড়ীর ইনচার্জ এসআই মাহবুব বলেন, ঘটনাস্থলে প্রণয় রায় নামে পুলিশের এক কর্মকর্তা ওই দৃশ্য দেখতে পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে আমি ব্যবসায়ি সোলায়মানকে থানায় নিয়ে যাই।
এবিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মিজানুর রহমান বলেন, এধরণের একটি ঘটানা শুনছি কিন্তু এখন পযন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রিপন হাওলাদার
ঠিকানা: ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
মোবাইল: 01721-976302 ইমেইল: alokitosangbad8200@gmail.com
© Copyright, All Rights Reserved