নিজস্ব প্রতিবেদক ::: বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিখোঁজ যুবক সজল দাসকে (৩১) বাড়ি পাঠাতে নগদ ২৫ হাজার টাকা একটি চক্র দাবি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । তাও আবার নিখোঁজ যুবক সজল দাসের মোবাইল নম্বর থেকে তার মায়ের মোবাইলে কল করে চাওয়া হয়েছে। যদিও টাকা চাওয়া ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে বরিশাল মেট্রোপলিটনের কোতোয়ালি মডেল থানায় এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন নিখোঁজের চাচা শংকর দাস।
তার দাবি, বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার উত্তর রহমতপুর এলাকার দুলাল দাসের ছেলে সজল দাস। সে ভোলার লালমোহন উপজেলায় ব্র্যাকে চাকরি করে। কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালের কীর্তনখোলা নদী ও লাহারাট খালের সংযোগ স্থলে তাকে বহনকারী স্পিডবোটটি দুর্ঘটনা কবলিত হয়। এরপর থেকে সজল দাসের কোনো সন্ধান নেই।’
চাচা শংকর দাস বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্বজনরা বৃহস্পতিবার রাত থেকেই কীর্তনখোলা নদী ও আশপাশের এলাকা এবং হাসপাতালগুলোতে খোঁজখবর নিতে শুরু করে। তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি, কিন্তু সজল দাসের ব্যাগটি বরিশাল ডিসি ঘাট এলাকা থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তি স্বজনদের বুঝিয়ে দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘ব্যাগ পেয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, দুর্ঘটনা কবলিত ওই বোটটিতে সজল ছিল। তবে এরই মধ্যে সজলের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে তার মায়ের মোবাইলে কল করা হয় এবং অজ্ঞাত ব্যক্তির পক্ষ থেকে জানানো হয় সজল তার জিম্মায় রয়েছে। একইসঙ্গে সে সজলকে বাড়ি পাঠাতে ২৫ হাজার টাকা দাবি করে এবং মোবাইল নম্বর ও বিকাশ নম্বর দেয়।’
তিনি বলেন, ‘খবরটি পেয়ে বিকাশে কিছু টাকা পাঠানোর চেষ্টা করা হয়, তবে অজ্ঞাত ব্যক্তির দেওয়া বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠানো যাচ্ছিল না। পরে সজলের নাম্বারসহ অজ্ঞাত ব্যক্তির দেয়া নম্বরগুলোতে কল করা হলে সেগুলোর কোনোটি বন্ধ আবার কোনটিতে কল প্রবেশ করছিল না। এতে সন্দেহ হলে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’
এদিকে দুর্ঘটনায় নিখোঁজ স্পিডবোটের চালক আলামিন ও অপর যাত্রী রাসেলের স্বজনদের কাছেও মোবাইল ফোনে কল করে টাকা চাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সজলের চাচা শংকর দাস।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরপরই আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছি। এরইমধ্যে সিমগুলোর বিষয়ে তথ্য নেয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে যেটুকুু তথ্য পাওয়া গেছে তাতে সিম ক্লোন হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘সিমের লোকেশনও এখন পর্যন্ত আগের দিনের জায়গাতেই রয়েছে। তাই এটি প্রতারক চক্রের কাজ হতে পারে। ভুয়া তথ্য দিয়ে এরা টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে হয়তো। তবে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’
বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালের কীর্তনখোলার নদীতে ট্রলারের সাথে সংঘর্ষে স্পিডবোট ডুবে একজন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি গুরুতর আহত এক পুলিশ সদস্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্পিডবোটের চালকসহ একাধিক ব্যক্তি নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়ন সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদী ও লাহারহাট খালের সংযোগস্থলে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় স্পিডবোট চালকরা জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রিপন হাওলাদার
ঠিকানা: ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
মোবাইল: 01721-976302 ইমেইল: alokitosangbad8200@gmail.com
© Copyright, All Rights Reserved