আলোকিত সংবাদ ডেস্ক::: বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী বেলসপার্কটি একসময় খেলাধুলা ও রাজনৈতিক সমাবেশ স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে নগরবাসীর কাছে একটি বিনোদনস্পটে পরিণত হয়েছে। নগরীর মাঝকেন্দ্রে বেলসপার্কটির অবস্থান হওয়ায় নগরবাসীর আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এটি। সারাদিন খেলাধুলার পাশাপাশি বিকাল হওয়ার সাথে সাথেই এখানে বাড়তে থাকে জনসমাগম। এছাড়াও বেলসপার্ক মাঠে বৃক্ষমেলাসহ বিভিন্ন সময়ে মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
কিন্তু বর্তমানে জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের নজরদারীর অভাবে ঐতিহ্যবাহী বেলসপার্কটির সৌন্দর্য এখন বিলীনের পথে। এছাড়াও দিনে দিনে ধ্বংস হতে যাচ্ছে বেলসপার্কে বেড়ানোর পরিবেশ। কিছু অসাধু ব্যক্তি বেলসপার্কটিতে আসা জনসমাগমকে কেন্দ্র করে অবৈধভাবে দখলবাণিজ্য করে সুগম করেছে চাঁদা আদায়ের পথ। বেলসপার্কটির রাস্তার দুপাশ সহ অধিকাংশ জায়গা দখল করে গড়ে তুলেছে অবৈধ দোকানপাট। আর দোকানপ্রতি মাসিক ভাড়া ও এডভান্স হিসেবে নেয়া হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। আর এসব অবৈধ ও ভ্রাম্যমান দোকানপাটে অস্তিত্ব বিলীনের পথে বেলসপার্কটি। আর বর্তমানে বেলসপার্কে ভ্রাম্যমান দোকান দিয়ে দখলের শীর্ষে রয়েছে কেডিসির বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে । অভিযোগ রয়েছে এই নব্য দখলদাররা ৮-১০ টি অস্থায়ী দোকান বসিয়ে মাসে ভাড়ার নামে হাজার হাজার টাকা চাঁদা তুলছে
সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, বেলসপার্কের একাধিক প্রবেশদ্বারসহ পার্কের দুপাশের রাস্তাজুড়েই রয়েছে অসংখ্য ভ্রাম্যমান ও অস্থায়ীভাবে নির্মানকৃত দোকানপাট। আর এতে বর্তমানে সৌন্দর্য্য ও অস্তিত্ব দুটোই বিলীনের পথে। এর সাথে সাথে বেড়াতে আসা দর্শানার্থীরা রয়েছে দুর্ঘটনা আতঙ্কে।
অবৈধ দোকানপাটের জন্য বেলসপার্কে এখন জনসাধারণের চলাচলই দায়। পুরো রাস্তাই এখন অবৈধ দোকানদারদের দখলে। আর এতে সংশ্লিষ্ট দুই দপ্তর জেলাপ্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন রয়েছে নিশ্চুপ। দুই দপ্তরের নজরদারীর অভাবেই আজ বেলসপার্কের এ দশা।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, পেশিশক্তি ব্যবহার করে অবৈধভাবে বেলসপার্ক দখল করে দোকান নির্মাণ করে মোটা অংকের টাকা এডভান্স নিয়ে ও মাসিক ভাড়া দিয়ে অবৈধভাবে টাকা ইনকামের পথ সুগম করেছেন। আর এই দখলবাজদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলছেনা। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলারও সাহস পাচ্ছেনা। দখলবাজরা দোকানপ্রতি মাসিক ৩-৬ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করছে। এছাড়াও এডভান্স হিসেবেও নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। কেউ কেউ আবার দখলকৃত পজিশন ৬০-৭০ হাজার টাকায় বিক্রিও করছেন বলে জানাগেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেলসপার্কের এক দোকানী জানান, কিছুদিন পূর্বে বেলসপার্কে একটি দোকান নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটে। আ'লীগের দুই গ্রুপে একটি দোকানঘর দখল নিয়ে একান্ড ঘটান। দোকানটি একপক্ষ ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে স্ট্যাম্পে লিখিত করে ক্রয় করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো সরকারি জমি কিভাবে একজন আরেকজনকে স্ট্যাম্পে লিখিত আকারে বিক্রি করেন। আর এ ঘটনা নিয়ে তখন সরগরম ছিলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন পত্রিকা। তবে এতকিছুর পরেও তখন টনক নড়েনি সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের। এদিকে বেলসপার্কে ঘুরতে দর্শনার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বেলসপার্কে এখন আর ঘুরতে আসার কোন পরিবেশ নেই। বেলসপার্ক পুরোটাই এখন অবৈধ দখলদারদের দখলে। অথচ বেলসপার্ক রক্ষায় কারো কোন উদ্যোগ নেই। নগরবাসীর প্রশ্ন কবে টনক নড়বে জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের? আর কবে অবৈধ দখলদার থেকে দখলমুক্ত হবে ঐতিহ্যবাহী বেলসপার্কটি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রিপন হাওলাদার
ঠিকানা: ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
মোবাইল: 01721-976302 ইমেইল: alokitosangbad8200@gmail.com
© Copyright, All Rights Reserved