আলোকিত সংবাদ ডেস্ক::: বরিশাল বিভাগীয় ট্যাংকলড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস ভাঙচুর মামলা দায়ের করায় বাদীকে মাদক দিয়ে ফাঁসানো ও জীবন নাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী।
গত ৬ আগষ্টের পর থেকে অফিস ভাঙচুরের মামলার আসামীরা এই চেষ্টা করে আসছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় ট্যাংক লড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক মোঃ ফয়সাল হাওলাদার। গত (৫ নভেম্বর) এক যুবককে ধরে নিয়ে জোর করে ভিডিও স্বীকারোক্তি আদায় করে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ট্যাংক লড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদ মোঃ ফয়সাল হাওলাদার কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আসামীরা হলেন, নগরীর ১০ নং ওয়ার্ড রাজ্জাক কলোনির বাসিন্দা মোঃ শামীম ফরাজি ওরফে (সম্ভু) পিতা আবু ফরাজী, রাজু ওরফে (কালা রাজু), পিতা মোঃ সেলিম ,মোঃ টিটু মিয়া,পিতা লাল মিয়াসহ অজ্ঞাত ৮/১০ জন।
এদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানাসহ একাধিক থানায় বেশকিছু মাদকদ্রব্য গাঁজা,ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মামলা চলমান রয়েছে।

কোতয়ালী থানা সূত্রে জানা যায়, শামীম ফরাজি ওরফে সম্ভু'র বিরুদ্ধে মাদকের ওয়ারেন্ট আছে। পুলিশ শামীমকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করে তখন নিজেকে সম্ভু পরিচয় দিয়ে থাকেন।
কিন্তু ঠিকমতো হাজিরা না দেওয়ায় আদালত তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেন। শামীম ফরাজি ওরফে সম্ভু নিজেকে শামীম দাবি করে ওয়ারেন্ট থেকে বাঁচতে বিভিন্ন সময় থানায় জাতীয় আইডি কার্ড শো করেন। শামীম ফরাজি আ লীগের আমলে নিজেকে আ'লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে দাপিয়েছে।
ভুক্তভোগী ফয়সাল হাওলাদার বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ৬ই আগস্ট বিএনপির কর্মী সেজে বরিশাল বিভাগীয় ট্যাংক লড়ি শ্রমিক ইউনিয়নে অফিস ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগের সমর্থক মোঃ টিটু মিয়া,মোঃ রাজু ও মাদক ব্যবসায়ী মোঃ শামীম ফরাজি ওরফে (সম্ভু)সহ সন্ত্রাসীরা।
এঘটনায় আমি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করি। কিন্তু এরপর থেকেই আমাকে নিয়ে শুরু হয় নানা ধরনের ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, দুইমাস ধরে আমি,আমার পরিবার ও আত্নীয় স্বজনদের নানাভাবে হয়রানি করে আসছে আসামীরা।
বিগত দিনে তারা আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী সমর্থন হলেও বর্তমানে বিএনপি'র কর্মী সেজে এসব অপকর্ম চালাচ্ছে। তিনি আরো বলেন আসামিরা এলাকায় মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন সময় তার বাসার সামনে এসে মাদক বেচা কিনা করেন। এতে বাধা প্রদান করায় কিছুদিন পূর্বে তার বাবাকে মারধর করে টিটু মিয়া,রাজু ওরফে কালা রাজু,শামীম ফরাজী সহ বেশকিছু সন্ত্রাসীরা।
গত ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় এক যুবককে দিয়ে মাদক কিনে আনে। এরপর নিজেরাই ওই যুবককে একটি ঘরে আটকিয়ে মারধর করে জোরপূর্বক স্বীকার করায় যে 'কিনে আনা মাদক ফয়সালের আত্মীয়র। এছাড়া ফয়সাল নিজেও মাদক বিক্রি'র সাথে জড়িত আছে এমন স্বীকারোক্তি দিতে ওউ যুবককে চাপ প্রয়োগ করা হয়। এরপর ওই নির্যাতনের ভিডিও ক্লিপ আসামী শামীম ফরাজি তার নিজস্ব (আগুন) নামে ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, শামীম ফরাজী ও তার বড় ভাই বান্দ রোড শিশু পার্কের সামনে, সেনাবাহিনীর ক্যাম্প থেকে ৫০ গজ দূরে সেবা ক্লিনিকের বিপরীতে, সকাল সন্ধ্যা মাদকদ্রব্য গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রি করে যুব সমাজকে ধ্বংস করে আসছে।
এদের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করলে আমাদেরকে মাদক দিয়ে ফাঁসানো বা হামলা মামলা করাসহ জীবন নাশের হুমকি দিয়ে থাকেন। আমরা এদের ভয় কখনোই কোন কথা বলতে পারিনা। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত যেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এবিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মিজানুর রহমান বলেন,বিষয়টি আমি শুনেছি। ভুক্তভোগী ফয়সাল নামে এক যুবক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রিপন হাওলাদার
ঠিকানা: ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
মোবাইল: 01721-976302 ইমেইল: alokitosangbad8200@gmail.com
© Copyright, All Rights Reserved