বরগুনা প্রতিনিধি ::: দেশের উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীতে ফসলি জমি দখল করে কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও উপজেলা কৃষি যন্ত্রপাতি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে।
ফলে কৃষিজমি ভরাট করে নতুন দালানকোঠা গড়ে ওঠায় দিন দিন বদলে যাচ্ছে শস্যভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত বিষখালী নদীর পারের এ উপজেলার দৃশ্যপট।
স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কৃষিজমি ব্যবহারে সরকারি অনুমতি নেওয়ার বিধান থাকলেও খোদ কৃষি দপ্তরই তা মানছে না। বরং আবাদি জমি ভরাট করে দালানকোঠা গড়ে তুলছে। এ ছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত বাসাবাড়ি, অট্টালিকার পাশাপাশি সরকারিভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থায়নেও একাধিক দপ্তরের উদ্যোগে এ উপজেলায় কৃষিজমির ওপর ভবন, ক্ষুদ্র শিল্প কারখানা, পুকুর খনন, রাস্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হচ্ছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক বেতাগী উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহসিন খান বলেন, খাদ্যশস্য উৎপাদন ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার অপরিহার্যতার কথা স্মরণ রেখে স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে তাদের এসব বিবেচনা ও অনুসরণ করা জরুরি ছিল। কিন্তু খোদ সরকারি দপ্তরই তা করেনি, সেখানে তো ভূমিদস্যুদের কাছে জনসাধারণ আরও অসহায়। এভাবে চলতে থাকলে যা পরবর্তীতে আরও ভয়াবহতার দিকে নিয়ে যাবে।
এ বিষয়ে বেতাগী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানজিলা বেগম বলেন, যে ধরনেরই জমি হোক এ ক্ষেত্রে জমি ব্যবহারের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আমার জানা নেই। তবে সরকারি উন্নয়ন কাজের জন্য যেকোনো জমি ব্যবহার করা যেতে পারে। আবাদি জমি যাতে যথেচ্ছ নষ্ট না হয়, সেজন্য আমরা স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছি।
বেতাগী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহমদ বলেন, এখানে জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফসলি জমিতে দালানকোঠা তৈরি ও উন্নয়ন কাজে জমি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। তবে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকেই আইন মেনে চলা ও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় চেষ্টা করছি এ প্রবণতা থেকে উত্তরণের।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রিপন হাওলাদার
ঠিকানা: ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
মোবাইল: 01721-976302 ইমেইল: alokitosangbad8200@gmail.com
© Copyright, All Rights Reserved