নিজস্ব প্রতিবেদক ::: দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীকে দখলে রেখে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসা বালু মাফিয়াদের বিরুদ্ধে অবশেষে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। বার বার সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৫ জুন) রাত আড়াইটার দিকে বরিশালের শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের জুনাহার এলাকায় বালু মাফিয়াদের ঘাঁটিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে একটি ড্রেজার ও চারটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
কোস্টগার্ডের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এবং বরিশাল সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে নদীর মাঝখানে চলমান অবৈধ বালু উত্তোলনের কার্যক্রমে হানা দেওয়া হয়।
অভিযানের খবর টের পেয়ে বালু মাফিয়াদের অন্তত সাতটি বাল্কহেড ও বেশ কয়েকজন শ্রমিক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই দশক ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কীর্তনখোলা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করে আসছিল। তাদের প্রভাবের কারণে প্রশাসনের চোখর সামনে দিনের পর দিন এই কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর অভিযান ছিল খুবই কম। এতে নদীভাঙন তীব্র হওয়ার পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অভিযানকালে জব্দকৃত ড্রেজার ও চারটি বাল্কহেড নদী তীরবর্তী নিরাপদ স্থানে নিয়ে রাখা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে সংশ্লিষ্টদের ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।News
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দীর্ঘ ২০ বছর পর বালু মাফিয়াদের মূল ডেরায় এমন অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে তারা মনে করেন, একদিনের অভিযান নয়, ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করলেই কেবল কীর্তনখোলা নদীকে বালু দস্যুদের কবল থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।
তারা আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কীর্তনখোলায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের যে দাবি ছিল, এ অভিযান সেই প্রত্যাশারই প্রতিফলন। বিশেষ করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে বালু মাফিয়াদের দীর্ঘদিনের দখলদারিত্ব ও প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নদী, পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাব বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা আশা করছেন, এমন ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে কীর্তনখোলা নদীকে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের কবল থেকে স্থায়ীভাবে মুক্ত করা সম্ভব হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রিপন হাওলাদার
ঠিকানা: ইসরাফিল ভিলা (তৃতীয় তলা), ফলপট্টি রোড, বরিশাল ৮২০০।
মোবাইল: 01721-976302 ইমেইল: alokitosangbad8200@gmail.com
© Copyright, All Rights Reserved