• ২৯শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টনসিল অস্ত্রোপচারের পর শিশুর মৃত্যু, পালিয়েছে চিকিৎসক-নার্স

"আলোকিত সংবাদ ডেস্ক"
প্রকাশিত জুলাই ২৬, ২০২৫, ১৩:৪৭ অপরাহ্ণ
টনসিল অস্ত্রোপচারের পর শিশুর মৃত্যু, পালিয়েছে চিকিৎসক-নার্স
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন প্রতিবেদক :: টাঙ্গাইলে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে টনসিল অপারেশনে অস্ত্রোপচারের পর এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় চিকিৎসকসহ কর্তৃপক্ষ পালিয়েছে। শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেলে মির্জাপুর মডার্ন হাসপাতাল অ্রান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু তাসরিফা আক্তার (৯) দেলদুয়ার উপজেলার পাচুটিয়া গ্রামের পারভেজ মিয়ার মেয়ে।

নিহতের বাবা পারভেজ মিয়া বলেন, আমি ঢাকার রপ্তানি এলাকার একটি কারখানায় মেকানিক পদে চাকরি করি। শুক্রবার সকালে স্ত্রী পলি আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে মেয়ে তাসরিফার টনসিলের চিকিৎসা করাতে মির্জাপুর মডার্ন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আসি।

ক্লিনিকের চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর টনসিলের অস্ত্রোপচারের জন্য ভর্তি করা হয়। বিকেলের দিকে তাকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়। নাক কান গলার চিকিৎসক ডা. মাসুম বিল্লাহ তাসরিফার অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচার শেষে তাকে অচেতন অবস্থায় শয্যায় নেওয়া হয়।

এসময় চিকিৎসক জানান, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর তাসরিফার হাত-পা ছটফট করতে করতে থাকে। এসময় পারভেজ আহমেদ নার্স-চিকিৎসকদের ডাকতে থাকেন। একজন নার্স এসে বলেন টনসিল অপারেশনের রোগী হাত-পা ছটফট করে থাকে। এর কিছুক্ষণ পর তাসরিফার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে নিথর হয়ে পড়ে। পরে চিকিৎসক এসে তাকে কুমুদিনী হাসপাতালে পাঠান।

কুমুদিনী হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। পরে মৃত শিশু নিয়ে ক্লিনিকে এসে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুতে পারভেজ আহমদে ও পলি বেগম চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। তখন অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসক ডা. মো. মাসুম বিল্লাল-নার্সসহ মালিকপক্ষ সেখান থেকে গা ঢাকা দেন।

অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসক ডা. মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। এনেস্থিসিয়া ভুলের কারণে রোগীর মৃত্যু হতে পারে।’ তবে অ্যানেস্থেসিয়া ডা. সাইফ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘অ্যানেস্থেসিয়ায় ভুল হলে রোগীর জ্ঞান ফিরবে না। কিন্তু অপারেশনের পর রোগীর জ্ঞান ফিরেছে এবং কথাও বলেছে।’

এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ওসি মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, শিশু মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ঘটনাস্থলে ভিকটিমের পরিবার এবং লাশ কোনোটাই পাওয়া যায়নি। দ্রুত ভিকটিম লাশ নিয়ে দেলদুয়ারে তাদের নিজস্ব বাড়িতে চলে গেছেন। তিনি বলেন, আমি ভিকটিমের পরিবারকে সংবাদ পাঠিয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।