
রিপন রানা,বরিশাল::বরিশাল মহানগরীতে মাদক কারবার ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিরসনে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং থানা পুলিশের যৌথ সাঁড়াশি অভিযান ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।
বিএমপি কমিশনারের বিশেষ নির্দেশনায় নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ধারাবাহিক ও আকস্মিক আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিএমপি মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীর কোতয়ালী মডেল থানা, কাউনিয়া, এয়ারপোর্ট ও বন্দর থানা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্পটে ডিবির বিশেষ টিমের সমন্বয়ে এই ব্লক রেইড ও আকস্মিক চেকপোস্ট কার্যক্রম চলছে। বিশেষ করে নগরীর কালুশাহ সড়ক, কাজীপাড়া,দক্ষিণ আলেকান্দা, টিয়াখালী, ঠাকুরবাড়ি পুল,কেডিসি বস্তি, পলাশপুর,রসুলপুর,৩০ গোডাউন ও জাগুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় পুলিশি নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশের এই বিশেষ অভিযানে মূল টার্গেট করা হচ্ছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং সন্দেহভাজন অপরাধীদের।
বিএমপির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, লাগাতার এই অভিযানের ফলে গত আড়াই মাসে সহস্রাধিক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, যার একটি বড় অংশই মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,স্থানীয় জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করছেন।
বিএমপি ডিবি পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের কারণে বরিশাল নগরীর অলিগলি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা এবং মাদক কেনাবেচা অনেকাংশে কমে এসেছে। এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত অভিভাবক মহলের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে সাধারণ মানুষ তাদের প্রশংসা ব্যক্ত করছেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার আবু রায়হান মোহাম্মদ সালেহ মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছেন,বরিশাল মহানগরীকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত না করা পর্যন্ত এই সাঁড়াশি অভিযান এবং ব্লক রেইড নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ৮৮