
কুমিল্লার একটি আদালত প্রাঙ্গণে মামলার বাদী এক নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী মহিলা লীগের এক নেত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিচারক আবিদা সুলতানা মলির নির্দেশে অভিযুক্ত শাহনাজ আক্তার সুমনাকে আটক করে আদালতের হাজতখানায় পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ১ নম্বর আমলি আদালতে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত শাহনাজ আক্তার সুমনা কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌরসভার নূরপুর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি।
জানা গেছে, হাজিরা দিতে আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন সুমনা। হাজিরা শেষে আদালত থেকে বের হওয়ার পর বিচারক আবিদা সুলতানা মলির এজলাসের সামনে মামলার বাদী সালমা আক্তারের সঙ্গে তার দেখা হয়। এ সময় সালমাকে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ ওঠে সুমনার বিরুদ্ধে। এতে সালমা আক্তার আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে বিচারকের নির্দেশে পুলিশ সুমনাকে আটক করে আদালতের হাজতখানায় (কোর্ট লকআপ) পাঠায়।
ঘটনার পর আদালতে উপস্থিত আইনজীবীরা সুমনার জামিন বাতিলের আবেদন করেন। শুনানিতে তারা আদালতকে জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরো তিনটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানান আইনজীবীরা।
ভুক্তভোগী সালমা আক্তারের দাবি, আদালত প্রাঙ্গণে হামলার ঘটনা ঘটলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে আদালতের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করারও দাবি জানান তিনি।
কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুব বলেন, আদালত হচ্ছে বিচার পাওয়ার জায়গা। বিচার চলাকালে আদালতের এজলাসে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরো বলেন, মানুষ ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে আসে। এমন ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত। ন্যায়বিচারের স্বার্থে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো প্রয়োজন।
সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ৭৪