• ১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উজিরপুরে সাব-রেজিস্ট্রারকে ‘ম্যানেজ’ করে মানসিক রোগীর জমির দলিল অন্যের নামে

"আলোকিত সংবাদ ডেস্ক"
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ২০:৩৮ অপরাহ্ণ
উজিরপুরে সাব-রেজিস্ট্রারকে ‘ম্যানেজ’ করে মানসিক রোগীর জমির দলিল অন্যের নামে
সংবাদটি শেয়ার করুন....

উজিরপুর প্রতিনিধি :: বরিশালের উজিরপুরে তীব্র মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত এক ব্যক্তির জমি অন্যের নামে দলিল করে দেওয়ার ঘটনায় সাব-রেজিস্ট্রারকে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ও চিকিৎসা নথিতে ওই ব্যক্তির গুরুতর মানসিক অসুস্থতার তথ্য থাকলেও তার নামে থাকা জমি কীভাবে দলিল হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলার জয়শ্রী গ্রামের আজাহার আলী মৃধার ছেলে মো. কামরুজ্জামান (৩৩)। সমাজসেবা অধিদপ্তরের গেজেটভুক্ত নথি অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অসুস্থতাজনিত তীব্র প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত। এবং তালিকাভুক্ত মানসিক প্রতিবন্ধী। বরিশালের সিভিল সার্জনের প্রত্যয়নপত্রেও তার ‘Mental Disability’ থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তিনি স্বাভাবিক সব ধরনের কাজ করতে অক্ষম। এছাড়া পাবনা মানসিক হাসপাতালের চিকিৎসাপত্র ও নথিতেও তার তীব্র মানসিক রোগের চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য রয়েছে।

দলিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর উজিরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২৯২৭/২৬ নম্বর দলিলের মাধ্যমে কামরুজ্জামানের এক শতাংশ ভিটা জমি অমল কান্তি বিশ্বাসের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়। অমল কান্তি বিশ্বাস (৭২) জয়শ্রী গ্রামের হারান চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে।

জমিটি ৮৩ নম্বর জয়শ্রী মৌজার এসএ ৯৪৫ ও ৯৪৭ দাগের। এসএ খতিয়ান নম্বর ৪১৩, আগত নামজারি খতিয়ান ১০১১ এবং নামজারি খতিয়ান নম্বর ২০২৬-১০০১৩৩। দলিলে জমিটির মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৯০ হাজার টাকা।

দলিলটি লেখেন দলিল লেখক মোঃ আবুল বাশার হাওলাদার (বাদশা), সনদ নম্বর ২৬১১। ওই সময় উজিরপুরের সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মোঃ হারুন আল ইসা।

এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ হারুন আল ইসার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া সম্ভব নয়।”

দলিল লেখক মোঃ আবুল বাশার হাওলাদার (বাদশা) বলেন, “জমিদাতা যে মানসিক রোগী, আমি তা জানতাম না। জানলে এই কাজ করতাম না।”

জমির ক্রেতা অমল কান্তি বিশ্বাসের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মানসিক রোগী কামরুজ্জামানের পরিবারের সদস্যরা বলেন, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দলিল লেখক ও সাবরেজিস্ট্রার মিলে একজন মারাত্মক অসুস্থ মানসিক রোগীকে দিয়ে জমি লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা জমি ফেরতসহ এর সঙ্গে জড়িত সবার কঠিন বিচার চাই।”

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজা বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হবে।”

সরকারি ও চিকিৎসা নথিতে কামরুজ্জামানের গুরুতর মানসিক অসুস্থতার তথ্য থাকার পরও তার জমি কীভাবে অন্যের নামে রেজিস্ট্রি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে দলিল সম্পাদনের সময় তার আইনগত সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই যথাযথভাবে করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন পাশাপাশি মানসিক রোগীর থেকে নেওয়া জমি ফেরত দেওয়ার দাবি যানিয়েছে পরিবারের সদস্যরা।