
রিপন রানা,বরিশাল:: আজকের নিষ্ঠুরতার পৃথিবীর কিছু বাস্তবতা,! আমরা (পথশিশু) আমাদের দেখার কেউ নেই।
আজ বৃহস্পতিবার (২জুলাই) রাত সাড়ে এগারোটার সময়, শহরের লঞ্চঘাট এলাকার একটি হোটেলে রাতের খাবার খেতে টেবিলে বসি।
কিছুক্ষণের মধ্যেই খাবার সামনে নিয়ে আসে। আমি হাত ধুয়ে খাবার খাওয়া শুরু করে দেই। যখন খাবার খেতে থাকি,তখন একটি ৪বছরের শিশুসহ এক মহিলা হোটেলের সামনে আসেন।মহিলাটি ক্ষুধায় তার সন্তানের জন্য হোটেলে ম্যানেজারের কাছে কিছু ভাত চায়।
তখন হোটেল ম্যানেজার বলেন, মালিক পক্ষ নেই,বলে মহিলাকে তাড়িয়ে দেয়। তখন মহিলা তার সন্তানকে বার-বার টেনে সামনে নিয়ে আসেন এবং বলেন সন্তানের পেটে খুব ক্ষুদা লাগছে। সন্তানকে দেখিয়েও হোটেল ম্যানেজারের মন রক্ষা করতে পারে নায়। পেটের ক্ষুধা ও সন্তানকে নিয়ে হোটেলের সামনে অনেক্ষণ দাড়িয়ে আছে।
আমি বিষয়টি দেখে আমার খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেই। তার পড়ে দেখি মহিলাটা আমার দিকে তাকিয়ে আছে এবং দুচোখে পানি টলমল করছে, তিনি কিছু বলতে চায়।,কিন্তু সাহস করে বলতে পারছে না। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম যে,আপনি কি খাবেন,তখন তিনি কিছুই বলে না। আমি হোটেল ম্যানেজারকে বলি,তাদের কি পরিমাণ ভাত ও অনন্য কিছু লাগবে। সেই পরিমাণ ভাত ও অনন্য যা লাগবে তা দিয়ে দিন। মহিলাটা এই কথা শুনে তার সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে এবং তার মুখে হাসি ফুটে উঠে।
তখন হোটেল ম্যানেজার আমার দিকে এক নজর তাকিয়ে মাথা নিচু করে,মাটির দিকে তাকিয়ে থাকেন।
আমি খাবার শেষ করে ম্যানেজারকে বিল ও হোটেল বয়কে বকশিস দিয়ে বেরিয়ে আসি। তখন সবাই আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু আমিও বেশিক্ষণ আর না দাড়িয়ে চলে আসি।
বরিশাল লঞ্চঘাট এলাকায় ক্ষুধার্ত নারী ও শিশুর প্রতি হোটেল ম্যানেজারের নিষ্ঠুরতা এবং লেখকের মানবিক সহায়তার একটি বাস্তবচিত্র ফুটে উঠেছে। এই ঘটনাটি সমাজের বিত্তবান ও সাধারণ মানুষের মধ্যকার বৈষম্য এবং মানবিকতার চরম ও অমানবিক বাস্তবতাকে তুলে ধরা হয়েছে।
এই লেখায় কোনো কাল্পনিক বিষয় নেই। এটা সম্পূর্ণ বাস্তবতা। ছবি ফাইল ফুটেজ
লেখক ও কলামিস্ট,মোঃ রিপন রানা,
সংবাদটি পঠিত হয়েছেঃ ৪২