• ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নলছিটিতে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের মাঝে ফিডিং কার্যক্রমে পঁচা কলা বিতরণ

"আলোকিত সংবাদ ডেস্ক"
প্রকাশিত এপ্রিল ৭, ২০২৬, ২০:৪৩ অপরাহ্ণ
নলছিটিতে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের মাঝে ফিডিং কার্যক্রমে পঁচা কলা বিতরণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

নলছিটি ঝালকাঠি প্রতিনিধি:: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের জন্য পরিচালিত ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচিতে চরম অনিয়ম ও নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৭এপ্রিল ২০২৬) নলছিটি উপজেলার ৯৮ নং অনুরাগ গৌরীপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুরান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পঁচাকলা বিতরণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে,বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য যে কলা সরবরাহ করা হচ্ছিল,তার অধিকাংশই ছিল পঁচা,কালো দাগযুক্ত ও নিম্নমানের। এসব কলা দেখে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয় জনতা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তারা সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে অভিভাবক ও স্থানীয়দের তোপের মুখে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

জানা গেছে, ১৭ নভেম্বর ২০২৫ থেকে এলাকায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার সরবরাহ শুরু হয়। তবে শুরু থেকেই খাদ্যের মান নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, শিশুদের টিফিনে দেওয়া কলার বড় একটি অংশই ছিল খাওয়ার অনুপযোগী।

অভিভাবকদের ভাষ্য, সরকার শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ করে শিশুদের জীবন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে খেলছে। তারা বলেন,“শিশুদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারে এমন অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

সরবরাহের চালান (চালান নং-২৭৯৩০) পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘আইল্যান্ড ট্রেডিং লিমিটেড’-এর নাম উল্লেখ রয়েছে। চালানে বনরুটি ১২০ গ্রাম, কলা ১০০ গ্রাম এবং সিদ্ধ ডিম ৬০ গ্রাম সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের দাবি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রকল্প। শিশুদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে অবিলম্বে পঁচা খাবার সরবরাহ বন্ধ করে মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কলা সরবরাহের জন্য স্থানীয় এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে যারা এ ধরনের নিম্নমানের কলা সরবরাহ করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হোয়াটসঅ্যাপে কলার ছবি পাঠানোর পর তিনি বলেন, “যারা এ ধরনের কলা সরবরাহ করেছে, তাদের চিহ্নিত করে জানাবেন। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নলছিটিতে কলা সরবরাহকারী স্থানীয় এজেন্ট সজল ফকির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,“একদিনে ১৪ হাজার কলা সরবরাহ করতে হয়। এত বড় পরিমাণে সরবরাহ করতে গেলে কিছু কলার মান একটু খারাপ হবেই। কলাগুলো রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আনতে হয়। ট্রাকে ওঠানামার সময় কিছু কলায় দাগ পড়ে।”

তবে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি পরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান এবং সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এছাড়া তার কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।